মুশির্দ হতে খেলাফত বা খেরকা গ্রহণ

তরিকতী শিক্ষা পূর্ণ হলে মুশির্দ যোগ্যদের খলিফা বা যোগ্যতা সরূপ খেরকা দান করছেন।

কালিয়াকৈর উয়ায়েছিয়া পাক দরবার

এটি দরবারে শাহ আফজ নামেও খ্যাত। উয়ায়েছিয়া তরিকার উজ্জল নক্ষত্র হযরত শাহ আফাজ উদ্দিন উয়ায়েছি (রহ)এর মাজার জিয়ারত।

বাংলাদেশে বৃহতর উয়ায়েছিয়া তরিকার মাজার- “দরবার-এ-মুহসিন”

মানিকগঞ্জে হিজুলীতে চমকপ্রদ মাজার। হযরত শাহ মুহসিন খান (রহ) উয়ায়েছির মাজার। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমেদ খান তাঁর মুশির্দ ও পিতার দরবারে গদ্দিনশীন।

বাংলাদেশে বৃহতর উয়ায়েছিয়া তরিকার মাজার- “দরবার-এ-মুহসিন”

মানিকগঞ্জের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও আধুনিক স্থাপত্যের দরগাহ হলো 'শাহ মুহাম্মদ মহসিন খান দরগাহ', যা হিজুলী এলাকায় অবস্থিত। এটি জানালাবিহীন, ৫২ হাজার ইট দিয়ে নির্মিত একটি পরিবেশবান্ধব ও পুরস্কারপ্রাপ্ত স্থাপত্য। বিশ শতকের সুফি সাধক মহসিন খানের স্মরণে নির্মিত এই মাজারটি স্থানীয়ভাবে “উয়ায়েসি মহল” নামেও পরিচিত| Shah Muhammad Mohshin Khan Dargah.

হযরত শাহ কছিমুদ্দিন উয়ায়েছি (রহ) এর দরগা

উয়ায়েছিয়া তরিকার ওলিগণ বহু কিতাব রচনা করেছেন। তারমধ্যে হযরত শাহ কছিমুদ্দিন উয়ায়েছি (রহ) “মসনবী” ও “দেওয়ান” ফার্সী ভাষায় অমূল্য কিতাব রচনা করেন। পরবর্তীতে হযরত বখশী জাঁহাগীর আলী মিয়া তার মুর্শীদ হযরত মহসীন খান (রহ) এর সহায়তায় উক্ত কিতাবের বাংলা ভাষান্তর করে উয়াছেছিয়া তারিকার শিক্ষার্থীদের জন্য সহজতর করে দেন।

হযরত শাহ বজলুর রহমান জুলকারনাঈন (রহ);

উয়ায়েছিয়া তরিকার ওলিগণ বহু কিতাব রচনা করেছেন। তারমধ্যে ভাষা সৈনিক হযরত শাহ বজলুর রহমান জুলকারনাঈন (রহ) “নাহাজুল বালাঘা (অনুবাদ)” ও “ঈমানের ইশারা ১-৪ খন্ড” সহ বহু অমূল্য কিতাব রচনা করেন। তার খলিফা হযরত শাহ নুরুল কবীর উয়ায়েছী “ঈশ্বর গড ও আল্লাহর ইতিহাস” “আরবের কালো পাথর” “ আহলে বায়েত ও তাদের সবাশন” এবং উয়ায়ছি তরিকার বেশ কিছু কিতাব ইংলিশ ভাষায় ভাষান্তর করে নর্থ আমেরিকা হতে উয়ায়েছিয়া তরিকার প্রচার করে যাচ্ছেন।

Sunday, September 19, 2021

শরিয়ত তো আছেই! তরিকা গ্রহণ বা বায়াত গ্রহণের প্রয়োজন কি?

শরিয়ত তো আছেই! তরিকায় বায়াত গ্রহণের প্রয়োজন কি? জেনে নিন ১০টি কারণ-

 ”তোমরা সত্যবাদির সাথি হ্ও” আল-কুরআন।

১. “আল্লাহ পরীক্ষা করেন শরীয়ত ও যথাযথ পথ নির্দেশ দ্বারা এবং সৎকর্মে প্রতিযোগিতার আদেশ দ্বারা।” -সূরা মায়েদা: ৪৮। এখানে শরীয়ত থাকতেও আল্লাহ আরেকটি পথের কথা উল্লেখ করেছেন। শরীয়ত পথে থেকে যথাযথ আরেকটি পথ বায়াতের পথ। উক্ত আয়াতে পরীক্ষা করেন দ্বারা বলতে ধৈর্যের সীমা দেখেন। তিনি পরীক্ষা করেন ক্ষুধা ও ডর দ্বারা, ধন-সম্পদ, জীবন, স্ত্রী-সন্তান, ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দ্বারা। পরীক্ষায় যারা উর্ত্তীণ অর্থ্যাৎ যারা ধৈর্য ধারণ করে তারা প্রাপ্ত হয় বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত। - সূরা ২ বাকারা: আয়াত ১৫৫-১৫৭। 

২. যারা আল্লাহ থেকে বিশেষ জ্ঞানপ্রাপ্ত এবং আমলকারী তারা ’আহলে-যেকের’। তাদের শরণাপন্ন হতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। দেখুন- [Muhiuddin Khan কৃর্তক অনুবাদ] আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; আরও দেখনু [

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন (Taisirul Quran):কৃর্তক অনুবাদ

তোমার পূর্বে যে সব রসূল পাঠিয়েছিলাম যাদের প্রতি আমি ওয়াহী করতাম তারা মানুষই ছিল, তোমরা যদি না জান তবে কিতাবের জ্ঞান যাদের আছে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। সূরা ১৬ নাহল: আয়াত ৪৩  এবং সূরা আম্বিয়া ২১: আয়াত ৭। 
সুতরাং বায়াতপ্রদানকারীরাই কিতাবের জ্ঞান রাখে বিধায় অজানাকে জানতে বায়াত গ্রহণকারীদের উচিত উক্ত আয়াত সঠিকভাবে অনুসরণ করা।   

৩. তরিকা বা বায়াত গ্রহণের একটি বৃহৎ উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ওলি হওয়া। “আল্লাহর ওলিদের কোন ভয় নাই, তারা দুঃখিতও হবে না- সূরা ১০ ইউনুস:৬২” যেমন- ডাক্তার হতে হলে ডাক্তারের সান্নিধ্যে থেকে প্র্যাক্টিস করতে হয়, ওকিল হতে সিনিয়র ওকিলের নিকট প্র্যাক্টিস করতে হয়, তেমনি ওলির শিক্ষা বা সান্নিধ্য ছাড়া কেউ কী কোন দিন ওলি হতে পেরেছে? এমন কোন সাহাবাও নাই এবং এমন কোন একজন ওলিআল্লাহও নাই যিনি বায়াত না হয়ে ওলিআল্লাহ হয়েছেন। 


৪. তরিকা বা বায়াত গ্রহণের আরো একটি উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সংবিধান আল কুরআন বুঝা এবং সে অনুযায়ী সঠিক আমল করা। বাংলাদেশে উয়ায়েছী তরিকার প্রর্বতক- শাহ্ আবদুর রহিম (রহ.) বলেছেন- 
“বাপ দাদা, পীর, হাদী, ওস্তাদ, আলেম 
কুরআন মতে কহে মানহ হাকেম। 
বেমিল বাতায় যদি রদ করে দিবে 
আপনা আকেল জোরে বুঝিয়া লইবে। 
#একলা থাকিতে যদি হয় দুনিয়াতে
 তবু না ছাড়িবে ফেল কুরআনের মতে।”

ইসলামে মূল কাজ হলো আল্লাহ প্রাপ্তির পথ পাওয়া বা মৌলিক তত্ব অনুশীলন। শরিয়তে আল্লাকে চেনা-জানার সুযোগ নেই। আল্লাহকে চেনা-জানার বিশেষ জ্ঞান আল্লাহ তাঁর রাছূল (ছা) এর মাধ্যমে বিশেষ মানুষদের শিক্ষা দিতেন বায়াতের মাধ্যমে। কুরানের ভাষ্যতেই- যাদের জ্ঞান দান করা হলো তাদের উত্তম সম্পদ দান করা হলো। 


 ৫. দেখুন, পাক কুরআনে এবাদত করার একটি মেয়াদ দেয়া হয়েছে। ইবাদতের মেয়াদ হলো ইয়াকীন না আসা পর্যন্ত। 

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন (Taisirul Quran):কৃর্তক অনুবাদ 

"আর তোমার রব্বের ‘ইবাদাত করতে থাক তোমার সুনিশ্চিত ক্ষণের (অর্থাৎ মৃত্যুর) আগমন পর্যন্ত।" সূরা হিজর: আয়াত নং ৯৯। কিসের ইয়াকীন তা অবগত হওয়ার জন্য সঠিক তরিকা প্রয়োজন, কামেল মুর্শেদ প্রয়োজন। 


 ৬. যে আমানতের ভার আছমান, জমিন, পাহাড় বহন করতে অস্বীকার করেছে ( 

 Tafsir Bayaan Foundation কর্তৃক অনুদিত

"নিশ্চয় আমি আসমানসমূহ, যমীন ও পর্বতমালার প্রতি এ আমানত পেশ করেছি, অতঃপর তারা তা বহন করতে অস্বীকার করেছে এবং এতে ভীত হয়েছে। আর মানুষ তা বহন করেছে। নিশ্চয় সে ছিল অতিশয় যালিম, একান্তই অজ্ঞ" সূরা ৩৩ আজহাব: ৭২)। আয়াতে বলা হয়েছে ‘কিন্তু মানুষ উহা বহন করিল’ সেই আমানত কি? তার পরিচয় কি?  ও সেই আমানত হেফাজত পদ্ধতি কি? এসকল বিষয় জানার জন্য তরিকা প্রয়োজন সঠিক মুর্শিদ প্রয়োজন। উল্লেখ্য, সকল আমানত ফেরতযোগ্য। আমানত না চিনলে কিভাবে হেফাজত হবে আর কিভাবে তা ফেরত দেয়া যাবে! সুতরাং আল্লাহ দেয়া আমানত চেনা, হেফাজত করা ও ফেরত দেয়ার জন্য সঠিক মুর্শিদের সান্নিধ্য প্রয়োজন। 


 ৭. মানব শরীর যেমন বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা পরিপূর্ণ। তেমনি আল্লাহর রাসূলের দ্বীন বা তরিকার অঙ্গসমূহ হচ্ছে- শরিয়ত, তরিকত, মারেফত, হাকিকত। একটি ছাড়া অপরটি অচল। এক বুজুর্গ বলেছেন- যে শুধু শরিয়ত করলো সে জিন্দিক, যে শুধু তরিকত করলো সে ফাসেক, যে উভয়টি করলো সে কামেল। 


 ৮. কুরআনে ৩ প্রকারের জিকির করার জন্য নির্দেশ দেয়া আছে তা সঠিকভাবে জানতে হবে ও জানার পর আমল করতে হবে; কুরআনে উল্লেখ করা জিকির ব্যতিত অন্যান্য অজিফা/জিকির কি কুরআন সম্মত?  ৫০০/১০০০ বার অমুক কথা তমুক কথা পাঠ করা কুরআন সম্মত নয়।  কুরআন অনুযায়ী তিন প্রকারের জিকির করার নির্দেশ। কুরআনে উল্লেখিত জিকির করেই আপনি সময় পাবেন না; দম কশি চিল্লা বসি শত শত বার অন্যান্য জিকির করার সময় কই! কুরআন অনুযায়ী তিন প্রকারের জিকির করার নির্দেশসমূহ দেখুন-  
(১) আল্লাহর নামের জেকের করতে হুকুম- সূরা নং ৭৩: আয়াত নং ৮ 
(২) আল্লাহর নিয়ামতের জেকের করতে হুকুম- সূরা নং ৩৩: আয়াত নং ৯ 
(৩) আল্লাহর জেকের করতে হুকুম- সূরা নং ৩৩: আয়াত নং ৪১ 
ইসমে আজম বা সর্বচে বড় নাম, মূল নিয়ামত এবং খাস আল্লাহর জিকির এগুলি জানার জন্য এবং সঠিকভাবে আমল করার জন্য তরিকা প্রয়োজন সঠিক মুর্শিদ প্রয়োজন। 

 ৯. বহু আয়াতে বায়াত গ্রহণের নির্দেশ রয়েছে। যেমন- 
(ক) হে মুমেনগণ! আল্লাকে ভয় করে এবং তাঁর সান্নিধ্যের জন্য ওসিলা অন্বেষণ কর। সূরা ৫:৩৬ 
(খ) যদি তোমরা না জান তাহলে আহলে যেকেরকে জিজ্ঞাসা কর। সূরা ১৬:৪৩ 
(গ) নিশ্চয়ই যারা আপনার হাতে বাইয়াত করে, তারা আল্লারই হাতে বাইয়াত করে। তাদের হাতের উপর আল্লাহর হাত। সূরা ৪৮:১০। 
(ঘ) নিশ্চয়ই আল্লাহ জান্নাতের বিনিময়ে মুমিনদের নিকট থেকে তাদের নফছ এবং মালামাল ক্রয় করেন। সূরা ৯:১১১। 
(ঙ) মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে আল্লার সন্তুষ্টির অন্বেষায় তার নফছ বিক্রয় করে। সূরা ২:২০৭। 
(চ) হে মুমিনগণ!- আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের, আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যেকার উলিল আমরের (ইসলামের দিক নিদের্শনায় হুকুমের অধিকারী)। সূরা ৪:৫৯। 


১০. কুরআনেই আছে যে, “হে ইমানদারগণ! মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করোনা।” এখানে অন্য ধর্মের বা মুসলিম বাপ-দাদার ঘরে জন্ম নিয়েছে তাদের নির্দেশ দেয়া হয় নাই। যারা  ঈমানদার মুসলিম তাদের আল্লাহ সম্বোধণ করেছেন ‘হে  ঈমানদারগণ!’ বলে । তারপর বলেন মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। সহজ কথায়- ঈমানদারদের তরিকা/বায়াত গ্রহণ করে মুর্শিদের সহজ তালিম অনুযায়ী কুরআন বুঝে আমল করে মুসলিম হওয়ার জন্যই  ইমানদারদের জন্য ঈশারা। ‘হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমল সংশোধণ করবেন। তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন। সূরা ৩৩:৭০-৭১। 
আল্লাহর এক বুজুর্গ-ওলিআল্লাহ কত সুন্দর বলেছেন- 
 ∴ ∴ ∴ শরিয়ত হলো ফুল, তরিকাহ তার সুভাস ∴ ∴ ∴
 ∴ ∴ শরিয়ত বাগান, তরিকাহ বায়ু প্রবাহ ∴ ∴ 
বাংলাদেশে উয়ায়েছী তরিকার প্রর্বতক- শাহ্ আবদুর রহিম উয়ায়েছী (রহ) তাঁর ‘মুহম্মদী বেদ তত্ত্ব’ গ্রন্থে লিখেছেন : 
 “যত কিছু যাহেরাত সেহি সব শরিয়ত 
সে সবার ফেলকে তো তরীকত কয়। 
মূল চিজ হাকিকত, ইয়াদেতে অবিরত 
মারেফত সে ছুরাত চিনিব যাহায়।” 
(এখানে শরিয়ত, তরীকত, হাকিকত, মারেফত বুঝার ইঙ্গিত) - রাসূল-নবী আর আসবে না। নবী-রাছূল পরর্বতী আহল, তাদের থেকে পীর-মুরশেদ, শায়খ-মাশায়েখ, ওলি-দরবেশ, গাওছ-কুত্বু, গুরু-সাঁই ইত্যাদি লকবে আখ্যায়িত। তাদের অনুসারীদের বলা হয় তালেব, খাদেম, মুরীদ, শিষ্য, ছাত্র ইত্যাদি। উল্লেখ যে, অনেক পন্ডিত, ওলী-দরবেশ নামের লোকও আছে যারা অবৈধভাবে মানুষের মালামাল ভোগ করে এবং লোকদেরকে আল্লাহর পথ থেকেই ফিরিয়ে রাখে। সূরা তওবাহ ৯ : আয়াত নং ৩৪।। এদের উদাহরণ ও নিন্মমানের কিছু বাজে পীরদের উদাহরণ দিয়ে প্রকৃত কামেল মুর্শিদ হতে শিক্ষা গ্রহণ না করা অজ্ঞতা ও বোকামী। এমতাবস্থায়  শরিয়াতকে আর শক্তিশালী করাতে চাইলে শরিয়াত সংযোগে তরিকাহ গ্রহণ করতে- পীর সাহেবের কাছে সরাসরি হাতে হাতে বাইয়াত হতে হয়। যার কাছে বাইয়াত হবেন সে আপনার পীর/মুর্শিদ বা শিক্ষক। তিনি পাক কুরআন সম্মত মারফত শিক্ষা দিবেন। শিক্ষা দিবেন এমন কিছু যা আপনি জানেন না। তিনি শিক্ষা দিবেন কিছু জটিল প্রশ্ন যেমন-
# আল্লাহর স্মরণ বা জিকির কি ও  কিভাবে? 
# আমানত কি এবং হেফাজত পদ্ধতি কি? 
# সুরা হিজরের ৯৯ নং আয়াতে এবাদতের একটি মেয়াদ বলা হয়েছে সেই এবাদতের মেয়াদ কিসের উপর?
#সূরা আর রহমানে দুই পূর্ব দুই পশ্চিম (রাব্বুল মাসরিকাইন ওয়া রাব্বুল মাগরিবাইন) কোথায়?
# বেহেস্ত-দোজখ সম্পর্কে সঠিক কুরআন হতে শিক্ষা। 
# মাকামে মাহমুদ- কি ও  কিভাবে অর্জন করতে হয়। 
# বরজখ সম্পর্কে সঠিক কুরআন হতে শিক্ষা।
# পুলসিরাত সর্ম্পকে বাস্তব শিক্ষা। 
# সুলতান নাছির, কাবা কাউছান, মারাজাল বাহরাইন, নফস, রুহ ইত্যাদি কুরআনিক কথার সঠিক বাস্তবসম্মত শিক্ষা দিবেন। 

অনেকে বিভিন্ন তরিকায় শুধু বাইয়াত হয়ে বছরের পর বছর পার করে দিয়েছেন।  বিশ্বাস ও আমল ছাড়া বছরের পর বছর পার করলে চলবে না; সঠিক শিক্ষা অর্জন করে আমল করতে হবে। যেহেতু আল্লাহ বলেন- একের বোঝা অন্যে বহন করবে না। কাজেই, নিজের বোঝা নিজেকেই বহন করতে হবে। সঠিক শিক্ষা অর্জনে প্রয়োজনে  মুর্শিদ পরিবর্তন করতে হবে। মুর্শি দ পরিবর্তন করা হলেও আগের মুর্শিদের প্রতি তাজিম-শ্রদ্ধার যেন কমতি না হয়। তবেই উভয় কালে শান্তি প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং আল্লাহর ওলি হওয়ার যায়। পরিশেষে, দোয়া হোক-  হে আল্লাহ- ”আমারদের সহজ পথ দেখাও; যারা তোমার নেয়ামতপ্রাপ্ত তাদের পথ। তাদের পথে নয় যাদের প্রতি তুমি রাগান্বিত বা যারা গজব প্রাপ্ত (সূরা ফাতেহা)”। আমিন।

শাহ্ আশেক মুর্শেদ উয়ায়েছী (সুজন )
পীর
কালিয়াকৈর উয়ায়েছী পাক দরবার,
“দরবার-এ-শাহ্ আফাজ” 
 কালিয়াকৈর বাইপাস, কালিয়াকৈর পৌরসভা, গাজীপুর। 
017206.02222 

Wednesday, September 15, 2021

হজরত খাজা উয়ায়েছ আল করণী (رضى الله عنه) (রা) এর তিরোধান বা শহীদ দিবস যাকে “লাইলাতুল হারীর” বা রেশমী গৌরব রাত্রী বলা হয়।

হজরত উয়ায়েছ আল করণী(رضى الله عنه) এর তিরেধান বা শহীদ দিবস


“হজরত উওয়াইস (رضى الله عنه) উম্মতের কাছে সূর্যের মত এবং ধর্মের মোমবাতি।”

তিনি সরাসরি মহানবী (সা।) - এর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। তারপর মাওলা আলীর নিকট বায়াত হয়ে তার খলিফাও হন। সে হিসাবে তার দুই মুশিদ। হযরত দাতা আলী ইবনে উসমান আল হুজ্বিরি তাঁর “কাশফ-ওল মাহজুব” গ্রন্থে লিখেছেন:

Saturday, August 28, 2021

ঠিক টু সঠিক Road to Marifat

ঠিক টু সঠিক
Road to Marifat
-আশেক মুর্শেদ উয়ায়ছী।
 
শরিয়ত ঠিক তরিকত সঠিক।
শরা-শরিয়ত ছাড়া কেউ পৌছেনা তরিকত;
তরিকতে না ডুবলে, ঠিক হবে না কারো শরিয়ত।
শরিয়ত মিঠা হয় তরিকতের নিয়মে;
তরিকত তিতা থাকে শরিয়ত বিহনে।।
 
তরিকত পরে যাও মারিফতের সাধনে
মারিফতে দেখা যাবে ঈশ্বর দুই নয়নে।
নয়ন সবার ক্যামেরা, মেমরী  হল ব্রেন
ব্রেনে যা  জমা থাকে তা সবাই আগেই দেখে থাকেন।
 
যা অদেখা দেখি তরিকতের জ্ঞানে
এর বাস্তবতা মিলে হাকিকত সন্ধানে
হাকিকতের সন্ধানে মিলে যাহা কুরআনভিত্কি
কিছু বয়ান করি আল্লাহ রহমতের মালিক-
 আসল কুরআন কি, কোনখানে?
পুলসিরাত কোন পানে? মিলবে হাকিকতের সন্ধানে
হাসর-নশর, বেহেস্ত-দোজখ 
সিদরাতুল মুনতাহা,
অফুরন্ত দুনয়নে  মিলবেনা মুর্শিদ বিহনে।
শুধু শরিয়তে মাতাল  হতে পারবেনা তুমি; রোড টু মারিফাত বিনা সন্ধানে ।
আশেকের নয়ন জুড়াবে, প্রান জুড়াবে মুর্শিদ এর জ্ঞানের চরণে।।
-- লেখার তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ঈসায়ী। fb/ashek.murshed


Friday, May 7, 2021

“পীরের সন্তান পীর হওয়ার বিধান কি আছে” সৈয়দ কি ? বা কারা?

যদি বলি, "মিথ্যা বলা মহা পাপ" যেমন সত্য উক্তি, সকল ধর্মের জন্যও ইহা সত্য উক্তি, কোন ধর্ম বলবে না যে ইহা সত্য নয়। ঠিক তেমন ভাবেই বলা যায় যে কোন তরিকতেই এই বিধান নাই যে “পীরের ছেলে পীর হবে”, তবে যোগ্যতা থাকলে হতে পারে, বাধাও নাই। অবশ্যই পীরের ছেলে পীর হতে হবে বলে কোন বিধানও নাই।                                                                                                                       এমন কি ইসলামে ও “বায়াতে খলীফা” বা ইমাম নির্ধারণ কোন কোরআনভিত্তিক বিধান নাই যে “পুত্র পরাম্পরা খলীফা” হবেন বা ইমাম হবেন। ইমাম, খলীফা বা পীর নির্ধারিত হয় যোগ্যতার উপর কিন্তু নবীদের বা মুর্শিদের ইচ্ছা অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছার উপর এবং বাস্তবে তাহাই দেখা গিয়েছে, যেমন বিধান নাই কিন্তু নবী পাক মুহাম্মদ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজ বংশে পুত্র পরাম্পরা ১২ জন ইমামের ঘোষণা দিয়ে গেছেন, 
 “হাদীস নং ৪২৩২  সুনানে আবু দাউদ, পৃষ্টা- ৯১৫ (বাংলা) হযরত আমর ইবনে উসমান (র)... জাবের ইবে সামুরা (রা) হতে বর্নি ত। তিনি বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, এ দীন ততক্ষণ পর্যন্ত  কায়েম থাকবে, যতক্ষণ না তোমাদের উপর সর্ব  সম্মতিক্রমে নির্বাচিত ১২ (বার) জন খলিফা (নিযুক্ত) হয়।” 

একই বিষয়ে হাদিসের সিরিজ দেখুন- ৪২৩২ হতে ৪২৪২ পর্যন্ত।  বার ইমাম সর্ম্পকে আরও জানতেhttp://alhassanain.org/bengali/?com=book&id=84 
 
বাস্তবে ১২ জন ইমামের ঘোষণা দিয়ে গেছেন, একজনও বংশের বাহিরে হন নাই, কিন্তু তাই বলে এই ১২ জন ইমাম তিনাদের বংশের বাহিরে খলীফা বানান নাই  তা  নয়, তিনারা নিজ বংশের বাহিরে অনেক খলীফা নির্ধারন করেছেন, কিন্তু গদিনিশীন ইমামতি নিজ বংশেই রেখেছেন। অপরদিকে খিলাফতি বংশের মধ্যে ও করেছেন বংশের বাহিরে ও করেছেন অর্থাৎ জগ্যতা অনুসারে করেছেন, আবার দেখা যায় নূরে খোদা হযরত মুহাম্মদ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বংশের বাহিরে হযরত ঊয়ায়েস করনী (রা) কে খেরকা প্রদানের মাধ্যমে নিজের বায়াতি খলীফা নিযুক্ত করেছেন, ঠিক একই ভাবে হযরত মাওলা আলী (আ:) ও নিজ বংশের ইমাম ছাড়াও হযরত হাসান বুসরী (রা:) কে নিজ বায়াতি খলীফা নিযুক্ত করেছিলেন। তবে যোগ্যতা টা বংশের মধ্যে ই পাওয়া গেছে বেশী, এবং ইহাই সাভা, কারন উন্নত রক্তধারা, নিকট পরিবেশ মুর্শিদের খায়েশ ও দোয়া সহ অনেক ফ্যাক্টর কাজ করে বলে। এই বিষয় গুলি ধীররে ধীরে বুজবেন যখন তালিমে বালেগ হবেন, তবে ইহা সঠিক যে "পীরের ছেলে পীর হবে" এমন কোন বিধান নাই।                                                                 -

কিন্তু পীরের ছেলে যদি পীর হন তবে ইহাকে পীরের পক্ষপাক্তিত্য, স্বজনপ্রীতি বলা যাবে না, তাহলে পীরের প্রতি ভক্তি রইল না, নবী(স) এর জামানায় ও আহলেবায়েত ও ইমামদেরকে নিয়ে অনেকেই নবীজী হুজুর পাক (দূরুদ) এর প্রতি স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে ছিল। এখন ও অনেকে এই মনোভাব নিয়ে ঈর্ষা করে, পীরের প্রতি। ইহা স্বাভাবিক মুরিদদের মধ্যে এমন কি খলীফাদের মধ্যে ঈর্ষা থাকতেই পারে।-- পাগল হযরত উয়ায়েছ করনী (রা)'র তরিকা উয়ায়ছী তরিকতে পীরের ছেলে পীর কি নাই? আসলে আছে, বিধান নাই কিন্তু এই রেওয়াজ অনেক আছে, যেমন খাজেগানে খাজা হযরত আব্দুস সাত্তার উয়ায়সী (র) সাহেবের পুত্র হযরত জলিল উয়ায়সী (র) সাহেব কি উনার হুজরত গদিনশীন পীর ছিলেন না, অবশ্যই ছিলেন, তারপর হযরত জলিল সাহেবের ছেলে ও উনার গদিনশীন পীর হয়েছেন। অপর দিকে খাজেগানে খাজা হযরত আব্দুর রহিম (র) সাহেব উনার দুই পুত্র কে নাবালক অবস্থায় কোলে বসিয়ে বায়াত করে গিয়ে ছিলেন নি:শ্চয় কোন খায়েশ রেখে -- সেই খায়েশ পূর্ণ করেছিলেন খাজেগানে খাজা হযরত আব্দুল কাদের উয়াইসী (র) সাহেব, ঐ দুই শিশু কে উপযুক্ত করে তালিম দিয়ে, খেলাফত ও দিয়েছিলেন এবং বলে দিয়েছিলেন যে আপনারা আপনার বাবার নামেই বায়াত করবেন। 

এই হল দৃষ্টান্ত, বিধান না থাকলে ও মুর্শিদের খায়েশ পুরনে মুরিদ্দের যা করা দরকার তাহাই করা উচিত। 

♦♦♦ ওলিআল্লাহ রা কেন এমন খায়েশ করেন, এবং মুরিদরা কেন তা পুরন করা উচিৎ, তা আমরা নিম্নে লিখলাম, ইহার একটা খুব ই উচ্চ কারন রয়েছে। হযরত ইমামো হাসান হুসাইন (আ) এর ব্যাপারে ও তাহাই দেখা গিয়াছে, উনারা নবী (দূরুদ) এর বায়াতপ্রাপ্ত ছিলেন, কিন্তু শিখ্যা পূর্ণতা দান করেছেন হযরত আলী (আ), কিন্তু হযরত শেরে খোদা আলী (আ:) উনাদের কে কখন ও কোন নির্দেশ দিতেন না, কারন উনারা নূরনবী পাক (দূরুদ) এর রুহানি সন্তান বলে। যাক ওসব কথা।

 খাজেগানে খাজা শাহ আব্দুর রাহিম উয়ায়সী (র) সাহবের মছনবী শরীফ ৩২৫-৩২৬ পৃষ্ঠা। -- খাতেমা কিতাব, পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি ইহা তিনার একান্ত উয়ায়সী তরিকার অনুসারীদের জন্যই দিক নিদর্শন রেখে গেছেন, অন্য তরিকা বা আম মানুষের জন্য নয়, তবে উনার নির্দেশনা খুব সুস্পসট ও গভীর। যেমন ধরুন –

১- যখনে মুরশীদ তেরা বেশ বদলিয়া। দোছরা মুল্লুকে পীর পৌছিবেন গিয়া* বেজান অজুদ তুমি দেখিয়া নজরে। খবর করিবেন দিন ইসলাম সবারে* পীর ভাইগন তেরা যখনে পৌছিবে। মোসা বেরাতের মতে দাফন করিবে। দেখিবার জন্য যদি না পৌছে আসিয়া। এন্তেজারে রাত দিন দিবে কাটাইয়া।।।   

 – এই ক্ষেতরে অনেকেই এন্তেজার করেন না, এমন কি পীর ভাইদের জানান ও না। 

২।--জাহানী মালের দেনা থাকে যদি পীর। তামাম মুরিদ মিলে করিয়া তদবির* জ্ঞানীগণ বিচারেতে যাহা ঠিক হয়। না করে ফেসাদ সবে মিলে একতায়। খাতেমার ভিক নামে নাম হবে তার* দিনার দায়েতে পীরে করিও উদ্ধার। বিছমিল্লা পড়িতে কাজে ভুল নাহি হয়* হাছেল বকসিবে আল্লা মুরাদ নি:শ্চয়।।।   

 –---- এই ক্ষেএে দেখা যায় মুরিদরা পীরের দেনার দিকে ভ্রুক্ষ্যেপ করেন না, অল্প দান খরাত করেন এবং ভার টা ছেড়ে দেন ফরজান্দের উপর, অথচ নির্দেশনা কিন্তু মুরিদ্দের উপর দেনা পরিশোধ করার, ফরজন্দ দের উপর নয়, কিন্তু মুরিদরা টা না করে গদিনশীন ব্যাপার নিয়ে বেশি ব্যাস্ত থাকেন।

৩। গদিনশীন বিষয় নি:শ্চয়* তাহা বাদে দশ দিনে কর জিয়ারত। মিল মেছেলেতে সবে কর খেলাফত* পীরের ইসারা মতে খিলাফত বাবে। ছাহেবে ছরদারী যার তালিম হিসাবে* তামাম খলিফা পরে হবে একজন। তালিমে বেমিল যার পড়িবে যখন* ছরদারের রায় মতে মাফিক দলিল। দিবেন ফয়ছালকরে না করে তবদিল* বিশ তারিখেতে কর তেছরা মহফেল। মুরসিদের তছনি ফাত বোঝহে সকল* বুঝে শুজে ভুল চুক থাকে যাহাদের। মিলা মিল করে লও রাজ রমুজের* না হয় লোকছানী যেন খান্দানের নাম। না কাবেল নাহি পায় ভেদের কালাম* হুসিয়ার হুসিয়ার খুব হুসিয়ার। তালিম আশরা এহি খান্দানের সার* পীরের জবানে তেরা যেনা শুনিয়াছে। হইলে কাবেল তবে খলিফার কাছে* সেখা হতে ছেল ছেলায় তালিম লইয়া। পারিবে খান্দান দিতে রওসন করিয়া* 

----এখানে পীরের ইশারা মুতাবেক খলীফার কথাই বলা হয়েছে এবং সেই খলীফার তালিম মুতাবেক ই সরদারির কথা বলা হয়েছে।  তারপর ও যদি গড়মিল হয় তবে তা একে অপরে শুধ্রিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ঐ পীরের সকল খলীফা কে মিলে মিশে খিলাফতের কাজ করতে বলা হয়েছে, এবং ঐ সকল খলিফাদের মধ্যে একজন গদিনশীন হবেন পীরের ইশারা মতে, এখানে নির্বাচনের কথা ও বলা হয় নাই এমন কি মেধা ও জগ্যতা ম্যল্যাওনের কথা ও বলা হয় নাই, বরঞ্চ বলা হয়েছে সকল খলিফাদের মধ্যে একজন সরদার, সকলে যখন খলীফা হয়েছেন সকলেই জগ্যাতা অর্জন করেছেন, কাজেই অধিক যোগ্যতার প্রস্ন আসে না বরঞ্চ পীরের ইশারার ব্যাপার টা ই প্রাধ্যান্য।                                                        -

৪। খাতেমা কিতাবের মুল বিষয়:- খাতেমা কিতাবের মুল বিসয় শাহ সাহেব প্রথমেই লিখে দিয়েছেন যেমন –-- মেহেরবান* কি কাম লাজেম হয় তোমার উপর। কি হক পাইতে পারে মুরশেদ তোমার* বাতাই তোমাকে হাল করহে খিয়াল। তামিল করিলে ভবে হইবে কামাল* যখনে মুরশীদ তেরা বেশ বদলিয়া। দোছরা মুল্লুকে পীর পৌছিবেন গিয়া* –--- এখানে সুস্পষ্ট যে, মুর্শিদ অন্য পারে চলে গেলে মুরিদের কি করনিও সেটাই মুল বিষয়, যেমন অন্যান্য মুরিদের জন্য অপেক্ষ্যা করা, পীরের দেনা পরিশোধ করা, ৫, ১০, ২০ ও ৪০ দিনের অনুষ্ঠান ও জিয়ারত করা, কোরআন খানি করা, মাজার কে আকর্ষন করা, পীরের ইশারা মুতাবেক খলিফাকে মানা, তালীম শুধ্রাইয়া নয়া, মিলেমিশে খিলাফত চালান ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। এখানে পররের ছেলে পীর না হওয়া, বা অধিক যোগ্য ব্যাক্তি পীরের গদিনশীন হওয়ার কোন ব্যাপার এখনে লিখা নাই। কারন খলিফাদের মধ্যে একজন সর্দার বলা হয়েছে, খলীফা মানেই যোগ্য। এখানে ভোটাভোটিও কোন কথা নাই। ভোটাভোটি তখন ই আসে যখন উত্তম যোগ্য নির্ণয়ের ব্যাপার আসে। কারণ এক এক জনের কাছে যোগ্যতার বিচার এক এক রকম, এক এক রকম গ্যান ও দৃষ্টি ভঙ্গির কারনে, এই জন্য ই ভোটাভোটির মাধ্যমে গ্রহন যোগ্যতা আনা হয়। কিন্তু ইসলামে বা তরিকতে ভোটাভোটির মাধ্যমে অতি যোগ্যতার কোন অবকাশ নাই, নবী বা ইমাম বা মুর্শিদের নির্দেশ বা ইশারাই শির ধার্য, সে পীরের ছেলেই হোক বা অন্য কেহ ই হোক। -- এখানে আর একটা কথা বলি, মুরিদদের মধ্যে যারা যোগ্য তাদের কেত পীর সাহেবরা খেলাফত দিয়ে ই থাকেন এবং সে অনুযায়ী খলিফারা যার যার গদি তে তরিকত জারি করে থাকেন। এখন প্রস্ন আসে মুল পীরের গদিতে কে গদিনশীন হবেন, এই ক্ষেএে যোগ্য খলিফাদের মধ্য থেকে অতি যোগ্যের চেয়ে অতি সুইট্যাঁবেল (গ্রহন যোগ্য) খলীফা কে পীর সাহেবরা ইশারা করে থাকেন, এবং এই খেএে বেশির ভাগ ই দেখা যায়, উনারা উনাদের ফারজান্দ থেকে ই গদিনশীন করে থাকেন। এবং নিজের ফারজান্দ কেই কেন অতি সুইট্যাঁবেল (গ্রহন যোগ্য) করেন, তার কারন টা পরে লিখছি। ইহা কে ভুল বুঝা উচিত নয়। আর পীরের নির্দেশ ই আল্লাহর নির্দেষ।।।।। 

তারপর যদি কোন মুরিদের কাছে এমন প্রতিয়মান হয় যে-- কিন্তু দ্বিমত সেখা‌নেই যখন কা‌রো ব্য‌ক্তি স্বা‌র্থের কা‌ছে কোন পীর সা‌হেব তার মৌ‌লিক শিক্ষা ভু‌লে গি‌য়ে নি‌জের সা‌থে নি‌জের দেওয়া শিক্ষার অসম্মান ক‌রেন।              -

—এই ক্ষেএে মুরিদের আস্তা ই নাই তার পীরের উপর – এই খেএে ত পীরের পুত্রকে গদিনশীন মানার বা  না মানার প্রস্নই আসে না,  যেখানে পীর কেই না মানার অবস্থা। এই ক্ষেএে এই আলোচনা বেকার। --- এমন অবস্থা হলে ঐ মুরিদকে উচিত হবে ঐ পীরকে ত্যাগ করা এবং নিজের ইচ্ছা মত পীর সন্ধ্যান করা, পীরকেই যে ব্য‌ক্তি স্বা‌র্থের উরধ্যে ভাবতে পারছেন না, তাতে তার ছেলে খলীফা হওয়া কি অন্য কেহ খলীফা হয়, তাতে তার কি আসে যায়, মুল পীরের প্রতিত তার আস্তা নাই। খলীফা দিয়ে কি হবে।

নবীগন বা ইমামগন বা নায়েবে রাসুলগন অর্থাৎ পীর বা অয়ালিয়াল্লাহ রা কেন নিজের ফারজান্দের কে অতিশয় সম্মান দেন বা গুরুত্ত দেন বা নিজের স্থলাভিওিক করতে চান ? বা গদিনশীন করতে চান। ? --- -

-- এই বিষয়ে আমরা খুব বিস্তারিত আলোচনা করব না, যোগ্যতা, সুইট্যাঁবিলিটি, সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা, নিকটে সহবাতে থেকে তালিম গ্রহন, উন্নত রক্তধারা, আল্লাহর বিশেষ ফয়েজ ইত্যাদি নির্ভর/ আলোকে আলোচনা আমরা এখানে করছি না। এই বিষয়গুলি আপনারা নিজের বুদ্ধ্যিমত্তা দিয়ে নিজেই বুজে নিবেন।  তবে ইহার আধ্যাতিকতার দিক টা একটু ইশারা করব।

 প্রথমেই আসব নূরনবী মুহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মর্যাদা বিষয়ে,- আল্লাহর নিকট তার কি মর্যাদা, - মুমিনদের নিকট তার কি মর্যাদা, -সাধারন মানুষের নিকটা তার কি মর্যাদা,- ১৮ হাজার মাখলুকাতের নিকট তার কি মর্যাদা --- এ বিষয়ে লিখতে গেলে সারাজীবন চলে যাবে লিখে শেষ করা যাবে না, তা ছাড়া আপনারা আমাদের চেয়ে আরও অধিক এ বিষয়ে জানেন। তারপর ও দুই একটা বলি যেমন নূরনবী পাক (দূরুদ) কে মুমিনদের তার প্রানের চেয়ে ও অধিক গন্য করতে হয়, আল্লাহ কে মান্য করার বরাবর রাসূলে করীম হুজুর পাক (দূরুদ) কে ও মান্য করতে হয়। এমন কি নায়েবে রাসুল কে ও। -- তাতে কি দাঁড়ালো নূরনবীজী (দূরুদ) এর কথার ও মর্যাদা অধিক, তার নির্দেশের মর্যাদা ও অধিক, তার কথা হচ্ছে কোরআন অর্থাৎ আল্লাহর কথা, তার কণ্ঠের চেয়ে উচ্চ কণ্ঠে তার সাথে কথা বলা যায় না, সেটা হবে বেয়াদবী। তাই দেখা যাচ্ছে প্রিয়নূর নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র দেহ মোবারক এর ও অতি মর্যাদাবান, তার হাত মোবারক আল্লাহর হাত, তার পা মোবারক আল্লাহর পা, তার কথা আল্লাহর কথা, তার নির্দেষ আল্লাহর নির্দেষ ইত্যাদি’  সেই নূরে মুহাম্মাদী (দূরুদ) ও নায়েবে রাসুল এর হাতে হাত রেখে বায়াত নিতে হয়। কাজেই নূরনবী (দূরুদ) ও নায়েবে রাসূলদের অজুদের ও অনেক মর্যাদা। অজুদ কি ? অজুদ হল দেহ মোবারক ! কেবল ই দেহ মোবারক নয় আরও অনেক কিছু ! যেমন দেহের স্থুল বস্তু ও আছে আবার সুক্ষ্য বস্তু ও আছে। যেমন ধরুন ওহুদের যুদ্ধে যখন নবীজি নূর মুহাম্মদ (দূরুদ) এর দন্ত মোবারক শহীদ হয়েছিল, তখন সেই দন্ত মোবারক কে ও নূরনবী (দূরুদ) এর মর্যাদায় দাফন করা হয়েছিল।।।

 ইতিহাস হাদিসে আমরা পাই আখেরি নবী রাসূলে খোদা নূর মুহাম্মদ মোস্তাফা (দূরুূ) এর থুথু মোবারক ও মাটিতে পড়তে পারত না, উনার মুরিদ/সাহাবী ও আশেকানরা তা পড়ার আগেই লুফে নিতেন, কারন উনার থুথু মোবারক ও উনার অজুদ মুবারাক। এমন ই ভাবে উনার রক্ত মোবারক, মাংস মোবারক ইত্যাদি ও উনার সসম্মান অজুদ। এই জন্য আমরা দেখতে পাই নূরনবী পাক (দূরুদ) প্রাই বলতেন যে ফাতিমা আমার মাংসের টুকরা, তাকে যে কষ্ট দেয় সে আমাকে কষ্ট দেয়।#সুবহানআল্লাহ।  এতে কি দাঁড়ালো যে মা ফাতিমা (আ) ও নূরনবী পাক (দূরুদ) এর অজুদ, তার সম্মান ও মর্যাদা ও নূরনবী মুহাম্মদ (দূরুদ) এর অজুদের মর্যাদা।                                                                                                                           

একইভাবে অয়ালিয়াল্লাহদের ফারজান্দের মর্যাদা ও অয়ালিয়াল্লাহদের অজুদের মর্যাদা তুল্য। এখন ধরুন একজন অয়ালিয়াল্লাহর হাত একটা যুদ্ধে কাটা পড়ে গেল বা বিচ্ছেদ হয়ে গেল, সেই হাত খানা তো অনেক দূরে পড়ে আছে, সেই হাতের তো জ্ঞান/যোগ্যতা নাই সেই অয়ালির জ্ঞান/যোগ্যতার মতো, কিন্তু সেই হাত/অজুদের কি মর্যাদা সেই অয়ালিয়াল্লাহর মতো হবে না।।

 হবে জ্ঞান/যোগ্যতা না থাকা সত্তে ও মর্যাদা সেই অয়ালিয়াল্লাহর মর্যাদা সমান ই হবে। একটা উদাহরন দেই আপনারা জানেন আখাঊড়ার খড়মপুরে হযরত গেছু দারাজ শাহপীর কেল্লা শহীদ (রহ:) সাহেবের মাজার, ইতিহাসে আছে উনার দেহ মোবারক এর মাজার মুরাজবন্দে এবং উনার মাথা মুবারকের মাজাড় খড়মপুরে সমান মর্যাদায় সমাহিত, এমন হওয়ার কারন যুদ্ধে উনার মাথা মোবারক নদীতে ভেসে গিয়ে খরমপুরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছিল। তখন উনার মাথা মোবারক ওখানেই সমান মর্যাদায় দাফন করা হয়েছিল। হযরত বায়জিদ বোস্তামি (রহ:) সাহেবের মাজার চট্রগ্রামে পাওয়া যায় আবার আরব দেশে ও আছে।।।

 চট্রগ্রামে হয়তো উনার কোন ওজুদ মোবারকের মাজার ও বিদ্যমান। -- এখন আসি অজুদ মোবারক বিষয়ে একটা ছোট্ট কথা বলতে, অবশ্যই ইশারায় বলব, সুক্ষ্য ও স্থুল অজুদ ছাড়াও নবী/রাসূল ও অয়ালিয়াল্লাহদের আরও অজুদ আছে, যেমন ধরুন উনাদের দেহ মোবারকে যে জড় বস্তু থাকে বা পরিধান করে থাকেন সেটা ও উনাদের ওজুদের মর্যাদা পেয়ে থাকে, যেমন নূরনবী (দূরুদ) এর খেরকা মোবারক, তার জামা মোবারাক, উনার পাগড়ী মোবারক, উনার জুতা মোবারক, ইত্যাদি। ইহার যে কি মর্যাদাবান তা আপনারা আমার চেয়ে আরও ভাল জানেন। তবে বলতে পারেন যে এই সকল বস্তুর মর্যাদা আছে ঠিক ই কিন্তু অজুদ হল কিছাবে – আমি বলব ইহা তালিমি বিষয়, সময় মতো শিখে নিবেন।

তবে একটা উদাহরন দেই, নূরনবী পাক মুহাম্মদ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হযরত আবু হুরাইরা কে নিজের জুতা মোবারক হাতে দিয়ে প্রচার করতে বললেন যে “যে ব্যক্তি খাস দিলে একবার বলবে

 “#লা_ইলাহা_ইল্লাল্লাহ #মুহাম্মাদ_রাসূলাল্লাহ” 

সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম --

সে বিনা হিসাবে বেহেস্তে যাবে।“ – এই ক্ষেএে নূরনবী (দূরুদ) নিজ জুতা কেন দিলেন?, কারন এই জুতা মোবারক ও উনার অজুদ, এই জুতা  অজুদ মোবারক হাতে নিয়ে ঘোষণা দেওয়া মানে, নূরনবী পাক (দূরুদ)'র ই ঘোষণা। দুঃখের বিষয় এই অজুদি জ্ঞান অনেক সাহাবির ছিল না বিধায়, হযরত আবু হুরাইরা কে ঘুষি মেরেছিলেন। -- এই জন্য ই ত কাশিফুল আস্রার হযরত খাজা বজলুর রাহমান ঊয়াইসী সাহেব উনার কিতাবে লিখেছিলেন, যে সাহাবিত হযরত আবু হুরাইরাকে ঘুসি মারেন নাই ঘুসী মেরেছেন নূরনবী (দূরুদ) কে। তাহলে বুঝতেই পারছেন আপনারা যে নূরনবী (দূরুদ) এর জুতা মোবারক ও উনার অজুদ মোবারক হয় কি ভাবে?

তাহলে আরো একটা উদাহরন দেই নূরনবী পাক সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন উনার খেরকা মোবারক হযরত উয়ায়েছ করনী (রা:) সাহবের কাছে পাঠালেন হযরত ওমরের মাধ্যমে, তখন হযরত মাওলা আলী (আ) কে কেন সাথে থাকতে হল, কারন নূরনবী (দূরুদ) এর অজুদ মোবারকের ধারক বাহক হযরত শেরে আলী (আ) ছাড়া আর কে হতে পারে ? 

এমন কি হযরত ওয়ায়েস করনী (রা:) ও নবীর উম্মতদের কে মাগফেরাতের দোয়া না করে তা পরিধান করেন নাই। আর এই খেরকার ভিতর হযরত ওমর কি দেখেছিলেন। খেরকার এই জালালী আসল/ উতভাসিত হল কি ভাবে, খেরকা যদি কেবল ই একটা জড় বস্তু হতো, তবে এই মুজেজা দেখার কথা নয়। এই খিরকা নূরনবী পাক (দূরুদ) এর অজুদ মোবারক ছিল বিধায় নূরনবী পাক সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুজেজা  হযরত ওমর দেখেছিলেন। 

আর একটা কথা বলি কোন #অয়ালিআল্লাহ যখন কোন মুরিদকে খেরকা প্রদান করেন এবং নিজ হাতে পরিধান করাইয়া দেন, তখন সেই মুরিদকে জিন্দা লাশ হয়ে যেতে হয়, এবং এই মুরিদ সেই খেরকা নিজে খুলে রেখে দিতে পারেন না, তাতে চরম বেয়াদবি হয়। জিন্দা লাশ হয়ে জীবন যাপন কঠিন বিধায় এবং মুর্শিদ বর্তমান মুরিদের নিজে খেরকা খুলে রাখা বেয়াদবি বিধায়, মুর্শিদ ই মুরিদের খেরকা খুলে রেখে দেন। এই অবস্থা কেন তা সহজেই বুজতে পারছেন যে খিরকা ও মুর্শিদের অজুদি মর্যাদা। এখন তাহলে চিন্তা করে দেখুন একটা জড় বস্তু খিরকার মর্যাদা যদি এমন হয় তবে রক্তে মাংসে রুহে, জ্ঞানে শিখ্যায় তালিমে গড়া মুর্শিদ ফারজান্দ মুর্শিদের অয়াজুদ কি না, সেই ফারজান্দের মর্যাদা তাহলে কোথায়। এই জন্য ই অয়ালিয়াল্লাহরা তাদের ফারজান্দ কে নিজ অজুদ বলে গন্য করেন এবং সে ভাবে মর্যাদা ও দেন, এবং মনে খায়েশ রাখেন, তিনার ওয়াজুদ তিনার মতো ই যেন হন, অয়ালিয়াল্লাহদের খায়েশ কে আল্লাহ মর্যাদা ও দেন, উপযুক্ত মুরিদ ও খলিফারা পীরের খায়েশ পূরনের লক্ষ্যে মুর্শিদ ফারজান্দ কে উপযুক্ত শিক্ষ্যা ও তালিম ও প্রদান করে উপযুক্ত করে তুলতে সাহায্য করেন এবং মুর্শিদের অজুদ হিসাবেই গুন্য ও মান্য করেন। মুর্শিদ খায়েশ ই তখন বিধান হয়ে যায়। যাক আশা করি বুজতে পেরেছেন। ইশারায় বললাম তো একটু কঠিন হতে পারে। তবে গাওছুল আযম সাহায্য করবেন, ইনশাল্লাহ।

এই ক্ষেএে “সৈয়দ” দের কথা চলে আসে, তাই এই বিসয় ও কিছু বলতে হয়। সৈয়দ কোন জাতী নয়, কোন গোত্র নয় বা কোন দল ও নয়। সৈয়দ এর দুইটা অর্থ মশহুর, একটা অর্থ হচ্ছে “জানাব”, অপরটি হচ্ছে “নেতা”। নূরনবী মুহাম্মাদ (দ:) উনার নাতী হযরত ইমাম হাসান (আ:) ও হযরত ইমাম হুসাইন (আ:)'কে সৈয়দ বলে আক্ষ্যাইত করেছিলেন এমন কি উনাদেরকে বেহেস্তবাসিগনের নেতা ও বলে গিয়েছিলেন যুবকদের, অপরদিকে উনার কন্যা হযরত মা ফাতেমা কে ও বেহেস্তে রমনীগনের নেত্রী ও বলে গিয়েছিলেন। হযরত মা ফাতেমা, হাসান হুসাইন যেমন নবী করীম (দূরুদ) এর রক্ত ধারায় অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ নাসাবি সৈয়দ, ঠিক তেমনই  ভাবে হযরত আলী (আ:), মা ফাতিমা (আ:), হাসান (আ:), হুসাইন (আ:), নূরনবী করীম (দূরুদ) এর রুহানী সন্তান ধারায় অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ হাসাবি সৈয়দ ও বটে, অর্থাৎ উনারা নবী করীম থেকে ইলমে লাদুনি অর্জন করে মোমিন/মোমিনাদের কে দিক্ষ্যা দেওয়ার অনুমতি অর্জন করেছেন। হযরত মাওলা আলী (আ:) ফাতিমা, হাসান হুসাইন কোরআন মোতাবেক নূরনবী করীম (দূরুদ) সহ আহলে বায়াতের ও অন্তর্ভুক্ত এবং চির পবিত্র। এই পাক পাঞ্জাতনের রক্তধারায় যারা জন্মেছেন তারাই নাসাবি সৈয়দ, কোরআনে ইনাদের কে নবীর “কুরবা” বলা হয়েছে । যেমন হযরত হাসান (আ) এর বংশে, হাসানী সৈয়দ বা ফাতেমি বংশ, হযরত হুসাইন (আ) এর বংশে হুসিনী সৈয়দ আবার হযরত মাওলা আলী (আ) এর পরবর্তী বিবি এর রক্তধারায় হযরত আব্বাস আলমদার (র) এর বংশে আলাভী সৈয়দ। সকলেই নাসাবি সৈয়দ। তারপর নূরনবী পাক সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল মাত্র হুসাইন বংশীও  নাসাবি সৈয়দ থেকে ৯ জন কে নিজের স্থলাভিষিক্ত ইমামিয়াতের ঘোষণা দিয়েছেন। ইনারা ইলমে লাদুনি প্রাপ্ত বিধায় উনারা হাসাবি সৈয়দ এবং রক্ত ধারায় ও নাসাবি সৈয়দ। এখন প্রশ্ন আসে হাসান বংশীও সৈয়দ ও আলাভি সৈয়দদের মধ্যে কি কেহ ইলমে লাদুনি অর্জন করেন নাই বা হাসবি সৈয়দ নাই? অবশ্যাই আছেন, বেশী ভাগ ই থাকার কথা, কেবন মাত্র নূরনবী (দূরুদ) ঘোষণা দেন নাই বলে আমরা জানি না। আবার অনেকেই ইলমে লাদুনি অর্জন করেন নাই হতে পারে, তখন তারা কেবল ই নাসাবি সৈয়দ। আবার ধরুন নাসাবি সৈয়দ ছাড়াও হাসাবি সৈয়দ আছেন যেমন হযরত উয়ায়েস করনী (আ:) ইলমে লাদুনি অর্জন করেছিলেন বিধায় তিনাকে নবী করীম (স) উনার নিজ খিরকা প্রদান করেছিলেন, আবার হযরত আলী (আ) ও হযরত হাসান বুসরী (রা) কে খেলাফাত দিয়েছিলেন, উনারা  নাসাবি সৈয়দ না হলেও, নূরনবী পাক (দূরুদ) এর রুহানী সিলসিলায় থেকে ইলমে লাদুনি অর্জন করে “হাসাবি সৈয়দ” হয়েছিলেন। উয়াসীয়া তরিকার অয়ালিয়াল্লাহ বা বুজুর্গরা নূরনবী মুহাম্মাদ (দ:), মাওলা আলী (আ) হযরত ফাতেমা, হাসান হুসাইন  অর্থাৎ আহলে বায়াত এর অনুসারী এবং মুহাম্মাদ (দূরুদ) এর রুহানী সিলসিলার অনুসারী। তাই উনাদের প্রত্যেকটা কিতাব নূরনবী মুহাম্মাদ (দূরুদ), মাওলা আলী (আ) হযরত ফাতেমা, হাসান হুসাইন  অর্থাৎ আহলে বায়াত এবং নবী বংশের  ও সৈয়দদের শান দ্বারা পরিপূর্ণ। সবত এখানে লিখা সম্ভব না তাই নিম্নে কিছু হযরত শাহ আব্দুর রহিম উয়াইসী (রা) সাহবের লিখা থেকে দিলাম।

♣♣♣

শুনিয়াছি খবরেতে এইছাই বয়ান

তিনশত সাল তক জত জালেমান

আওলাদে রাসুল যে হি যেখানে পাইল

শহিদ দরিয়ার মাঝে ডুবাইয়া দিল

একেবারে ডুবাইতে করেছিল সাধ

নাহি পারিল আল্লাহ রেখেছে আবাদ

ভাসিতে আছেত তক্তা ভব দরিয়ায়

কিয়ামত তক এয়সা ভাসিবে সদায়

নাজাতের কিস্তি এহি হামেশা থাকিবে

আখেরে মুল কিস্তি ভাসিয়া উঠিবে

তাবেদা রয়ে যিনি আর এন্তেজার

আল্বেত্তা করিবে কিস্তি সে জনা কে পার

পাইয়াছি তক্তা আমি সে কিস্তির চিন

আওলাদে রাসুল তাহা জানিবে মমিন

লাড়কার আওলাদে থাকে বংশ সবাকার

ইহাও ত উলটা বটে নবী মস্তফার

মিশকাতে লিখেছে ছহি বুখারি হইতে

হযরত আবুবকর রাবি রেওয়ায়েতে

করিলেন রওয়ায়েত এছাই মাকুল

হাসেন হুসেন বেটা কহেন রাছুল

সে হাদিছ লিখা আমি না দেখি দরকার

অয়াকেফ আছেন ইহা জত দিন দার

আওলাদে ফাতেমা আলী আওলাদে রাসুল

আওলাদে হাসনায়েন সৈয়দ মকবুল

 ♣♣♣

করেছে হুকুম আপনি খোদায়

রাখিবারে দোস্ত ভবে নবীর কোরবায়

কোরান শড়িফে আছে কালাম আল্লার

পচিশে সিপারা ছুরা শোরার মাঝার

হুকুম করেছে আল্লাহ হজরত নবীরে

এহি কথা বলে দেহ উম্মত সবারে

হিদায়েত কতি আমি রাহেতে আল্লাহর

ইহার বদলা কিছু নাহি চাহি আর

কেবল চাহিত দোস্তি কোরবার বিচেতে

এহিত বদলা মেরা লাজেম হইতে।

♠♠♠

একস্থানে এক দওয়ায়ে শাহ সাহেব একভাবে লিখেছেন।

♠♠♠ মাফ করিবেন খাতা রাখিবেন পায়ে

বাহাক্কে আম্বিয়াগন বাহাক্কে রাসুল

বাহাক্কে আউলিয়া জত দিনে মকবুল

বাহাক্কে আহাল নবী সাহাবা আনসার

বাহাক্কে আইম্মা গন জর নেক্কার

বাহাক্কে শহীদান কারবালা ময়দান

বাহাক্কে মজলুমান সৈয়দ খান্দান। 

 ইহা ছাড়াও আহলে বায়াত ও নূরনবী বংশের শান ও মর্তবা  অনেক কিতাবেই পাবেন, অন্যান্য তরিকতের কিতাবে ও পাবেন কোরআন হাদিসে তো আছেই। বিশেষ ভাবে “নাসাবি সৈয়দ ও হাসাবি সৈয়দ” নিয়ে লিখেছেন হযরত শাহ বাদুর রাহিম উয়াইসী (আঃ) সাহেব ইশারায়, বিস্তারিত লিখেছেন হজরত শাহ মুফাখারুল ইসলাম উয়াইসী (রা) সাহেব  এবং হযরত শাহ বজলুর রাহমান জুল্কারনাইন উয়াইসী সাহেব,  উনাদের নিজ নিজ কিতাবে। এমন বিস্তারিত লিখার কারন টা হচ্ছে, আজকাল আমরা দেখতে পাই যে নবী বংশীও সৈয়দরা অনেকেও আহলে বায়াতের অনুসারি না হয়ে, নূরনবী (দূরুদ) এর বায়াতি সিলসিলায় না থেকে, এজিদি মুসল্মানিত্ত অনুসরন করেন অর্থাৎ মুয়াবিয়ার অনুসারি হয়ে থাকেন, আবার অনেকে ঐ রকম অনুসারি না হলেও ইল্মে লাদুনির বিসয়ে উদাসীন থাকেন। অথচ নূরনবীজী (দ:) এর সময় থেকে ১২ ইমামদের আমল পর্যন্ত নবী বংশের কেহ ই হযরত মাওলা আলী (আ:) এর সিলসিলার তাবেদারী ছাড়া অন্য কাহার ও তাবেদারি করেন নাই। এই ধরনের উদাসীন এবং ভিন্ন পথ অবলম্বীদের কে চৈতন্য দান করার জন্য, দিক নির্দেশনার জন্য এই হাসাব সইয়দ এবং নাসাবি সৈয়দ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।  আল্লাহ করানে নূরনবী পাক (দূরুদ) এর বংশ কে “কুরবা” আখ্যাইত করেছেন এবং মুমিন মুমিনাদের কে নির্দেশ দিয়েছেন।।।

বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (ছা.) ও তাঁর আহলে বায়েত বইটি প্রত্যেক রাসূল অনুসারী ও অনুসন্ধিৎসা পাঠকদের জন্য ..

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম রাসূল (ছা.) জীবনি সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সত্য জ্ঞানার্জনে বইটিতে যা যা পাবেন তা সংক্ষেপে নিন্ম: হযরত মু...