মুশির্দ হতে খেলাফত বা খেরকা গ্রহণ

তরিকতী শিক্ষা পূর্ণ হলে মুশির্দ যোগ্যদের খলিফা বা যোগ্যতা সরূপ খেরকা দান করছেন।

কালিয়াকৈর উয়ায়েছিয়া পাক দরবার

এটি দরবারে শাহ আফজ নামেও খ্যাত। উয়ায়েছিয়া তরিকার উজ্জল নক্ষত্র হযরত শাহ আফাজ উদ্দিন উয়ায়েছি (রহ)এর মাজার জিয়ারত।

বাংলাদেশে বৃহতর উয়ায়েছিয়া তরিকার মাজার- “দরবার-এ-মুহসিন”

মানিকগঞ্জে হিজুলীতে চমকপ্রদ মাজার। হযরত শাহ মুহসিন খান (রহ) উয়ায়েছির মাজার। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমেদ খান তাঁর মুশির্দ ও পিতার দরবারে গদ্দিনশীন।

বাংলাদেশে বৃহতর উয়ায়েছিয়া তরিকার মাজার- “দরবার-এ-মুহসিন”

মানিকগঞ্জের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও আধুনিক স্থাপত্যের দরগাহ হলো 'শাহ মুহাম্মদ মহসিন খান দরগাহ', যা হিজুলী এলাকায় অবস্থিত। এটি জানালাবিহীন, ৫২ হাজার ইট দিয়ে নির্মিত একটি পরিবেশবান্ধব ও পুরস্কারপ্রাপ্ত স্থাপত্য। বিশ শতকের সুফি সাধক মহসিন খানের স্মরণে নির্মিত এই মাজারটি স্থানীয়ভাবে “উয়ায়েসি মহল” নামেও পরিচিত| Shah Muhammad Mohshin Khan Dargah.

হযরত শাহ কছিমুদ্দিন উয়ায়েছি (রহ) এর দরগা

উয়ায়েছিয়া তরিকার ওলিগণ বহু কিতাব রচনা করেছেন। তারমধ্যে হযরত শাহ কছিমুদ্দিন উয়ায়েছি (রহ) “মসনবী” ও “দেওয়ান” ফার্সী ভাষায় অমূল্য কিতাব রচনা করেন। পরবর্তীতে হযরত বখশী জাঁহাগীর আলী মিয়া তার মুর্শীদ হযরত মহসীন খান (রহ) এর সহায়তায় উক্ত কিতাবের বাংলা ভাষান্তর করে উয়াছেছিয়া তারিকার শিক্ষার্থীদের জন্য সহজতর করে দেন।

হযরত শাহ বজলুর রহমান জুলকারনাঈন (রহ);

উয়ায়েছিয়া তরিকার ওলিগণ বহু কিতাব রচনা করেছেন। তারমধ্যে ভাষা সৈনিক হযরত শাহ বজলুর রহমান জুলকারনাঈন (রহ) “নাহাজুল বালাঘা (অনুবাদ)” ও “ঈমানের ইশারা ১-৪ খন্ড” সহ বহু অমূল্য কিতাব রচনা করেন। তার খলিফা হযরত শাহ নুরুল কবীর উয়ায়েছী “ঈশ্বর গড ও আল্লাহর ইতিহাস” “আরবের কালো পাথর” “ আহলে বায়েত ও তাদের সবাশন” এবং উয়ায়ছি তরিকার বেশ কিছু কিতাব ইংলিশ ভাষায় ভাষান্তর করে নর্থ আমেরিকা হতে উয়ায়েছিয়া তরিকার প্রচার করে যাচ্ছেন।

Monday, August 10, 2020

 মওলা আলী (আ) এর মুরিদ ও খলিফা কুমায়েল ইবনে জিয়াদ

কুমায়েল ইবনে জিয়াদ আন-নাখাই ১ থেকে বর্নিত আছে যে, আমীরুল মোমেনীন তার হাত ধরে তাকে কবরস্থানে নিয়ে গেলেন।  যখন তিনি কবরস্থানের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেনঃ-হে কুমায়েল, এ হৃদয়গুলো হল ধারক। এদের মধ্যে সর্বোত্তম হল যেটা ধারণ করে রাখতে পারে।
সুতরাং আমি যা বলি হৃদয় সংরক্ষণ করে রেখো। মানুষ তিন প্রকারের-এক প্রকার হলো যারা পন্ডিত ব্যক্তি ও ঐশী জ্ঞান সম্পন্ন; দ্বিতীয় প্রকার  যারা জ্ঞানের অন্বেষণ করে তারা মুক্তির পথিক ; সর্বশেষ হলো সাধারণ অপদার্থ লোক যারা প্রত্যেক আহবানকারীর পেছনে দৌড়ায় এবং বাতাসের যে কোন দিকে ঝুঁকে পড়ে।  তারা জ্ঞানের উজ্জ্বাল্য থেকে কোন আলো গহন করতে পারে না এবং কোন বিশ্বস্ত আশ্রয়ে আত্মরক্ষা করে না।
 হে কুমায়েল, জ্ঞান পার্থিব সম্পদ থেকে অনেক ভালো।  জ্ঞান তোমাকে রক্ষা করবে অথচ সম্পদকে তোমার রক্ষা করতে হবে।  ব্যয় করলে ব্যাকুল সম্পদ কমে যায় অথচ দান করলে জ্ঞান বহুগুণ বেড়ে যায় এবং সম্পদের পরিনাম মৃত্যু যেহেতু সম্পদ বিনষ্ট হয়।  
হে কুমায়েল, জ্ঞান হলো বিশ্বাস যা আমল করা হয়।  এর দ্বারা মানুষ জীবদ্দশায় আনুগত্য অর্জন করে এবং মৃত্যুর পরে সুখ্যাতি থেকে যায। জ্ঞান হলো শাসক আর  সম্পদ হলো শাসিত। 
হে কুমায়েল,যারা সম্পদ স্তুুপীকৃত করে তারা মৃত যদিও তারা সর্বসমক্ষে জীবিত। আবার যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন তারা থাকবে।  তাদের দেহ পাওয়া যাবে না কিন্তু তাদের আকৃতি হৃদয়ে স্থাপিত থাকবে। আমার বক্ষের দিকে তাকাও।। এখানে জ্ঞান স্তুপীকৃত হয়ে  আছে।   আমি আশা করি আমার  এই জ্ঞান  বহনকারী  কাউকে  পেয়ে যাবো।
 হ্যাঁ,আমি  এরকম  একজনকে পেয়েছিলাম  কিন্তু  সে এমন ব্যক্তি ছিল যাকে  বিশ্বাস  করা  যায় না।  সে  দুনিয়ার  লোভে দ্বীনকে ব্যবহার করবে এবং তার ওপর আল্লাহর আনুকূল্যের প্রভাবে সে মানুষের ওপর উদ্ধাত শাসক হবে এবং আল্লাহর ওজর দেখিয়ে সে ভক্তদের ওপর প্রভু হয়ে পড়বে। অথবা সে এমন ব্যক্তি হবে যে সত্যের স্রোতেদের অনুগত্য হবে কিন্তু তার বক্ষে কোন বুদ্ধিমত্তা নেই। প্রথমে সংশযেই় সে তার হৃদয়ে আশঙ্ক্ষা স্থান দেবে।  সুতারাং এটা কি ওটা কোনটাই আশানুরূপ ভালো নয়। 
হয় মানুষ আনন্দের জন্য ব্যগ্র থাকবে, সহজেই কামনা-বাসনা দ্বারা পরিচালিত হবে, না হয় সম্পদ সংগ্রহ ও জমা করতে আকুলভাবে চেষ্টা করবে। তাদের কারো দ্বিনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই।  এদের উদাহরণ হলো ছাড়া পাওয়া গরুর পালের মতো। এভাবেই জ্ঞান তার বাহকের সাথে মরে যায়।
হে আমার আল্লাহ! হ্যাঁ, পৃথিবী যেন কখনো এমন লোক শূন্য  হয়ে না যায় যারা আল্লাহর ওজর প্রকাশ্যে অথবা গোপনে রক্ষণাবেক্ষণ করে অথবা যারা সব সময় শঙ্কিত থাকে এই জন্য যে, আল্লাহর গুপ্ত ওজর ও প্রমাণ যেন প্রতিহত না হয়ে পড়ে। এমন লোকের সংখ্যা অতি অল্প কিন্তু আল্লাহর কাছে তারা মহামর্যাদাশালী।  তাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর ওজর প্রমাণ রক্ষা করে থাকেন। তারা তাদের মত কাউকে বিশ্বাস করে এবং তাদের মতো কারো হৃদয়ে বীজ বপন করে থাকেন। জ্ঞান তাদেরকে প্রকৃত বোধগম্যতা এনে দেয়। সুতরাং তারা দৃঢ়- প্রত্যয় সম্পন্ন আত্মার সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে।  অন্যরা যেটাকে কঠিন বলে মনে করে তা তারা সহজ বলে মনে করে। অজ্ঞদের কাছে যা অদ্ভুত মনে হয় তারা তা সোহাগ ভরে গ্রহণ করে।  তাদের দেহটা শুধু পৃথিবীতে বিরাজ করে কিন্তু তাদের আত্মা অনেক ঊর্ধ্বে থাকে।  আল্লাহর জমিনে তারা আল্লাহর প্রতিনিধি এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি আহবানকারী।  আহা! তাদের দেখার জন্য আমার কত আকুল আকাঙ্ক্ষা। 
হে কুমায়েল, এখন তুমি যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে পারো।  (১)কুমায়েল  ইবনে জিয়াদ আন- নাখাই ইমামতের গুপ্ত ভেদ সম্পর্কে জানতেন এবং তিনি আমিরুল মোমেনিন অন্যতম প্রধান অনুচর ছিলেন।জ্ঞানে ও সাফল্য তার মর্যাদা ছিল সমুন্নত এবং মিথ্যাচারিতা ও খোদাভীরুতায় তার স্থান ছিল প্রধান।  তিনি কিছু দিনের জন্য হিতে আমিরুল মোমিনের গভর্নর ছিলেন।  হাজ্জাজ  ইবনে ইউসুফ আছ-ছাকাফী ৮৩ হিজরীতে 90 ৯০বৎসর বয়সে তাকে হত্যা করে। কুফার শহরতলীতে তাকে দাফন করা হয়েছিল।  ❤ হযরত আলী (আঃ)  নাহজ আল- বালাঘা-১৪৭ নং খুতবা,  পাতা-৪২৩।

আমিরাল মোমেনীন আলী ( আ.) এর ওয়াসিয়াত কোমাইলের জন্যে
লেখকঃ আয়াতুল্লাহ হুসাইন আনসারিয়ান

রেওয়ায়াত ( হাসান বিন শায়াবা হুররানি ) তুহফুল উকুলের লেখক যিনি নিজের সনদকে ( সায়াদ বিন যাইদ বিন আরতাহ ) হতে এরশাদ করেনঃ

কোমাইল বিন যিয়াদকে দেখলাম এবং আমিরাল মোমেনীন আলী ( আ.) ফযিলত সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করলাম , সে উত্তরে বল্লঃ কি তুমি একটা খবর শুনতে চাও যে ওয়াসিয়াত  আমিরাল মোমেনীন আমাকে করেছেন এবং এই ওয়াসিয়াত তোমার জন্যে পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চায়তে ভাল হবে ?  উত্তরে বল্লঃ হ্যা , পরে বল্লেনঃ আমিরাল মোমেনীন ( আ.) আমাকে এইরূপ ওয়াসিয়াত করলেনঃ

হে কোমাইল , প্রত্যেক দিন ( بسم الله الرحمن الرحیم ) বলবা , এবং অতঃপর ( لا حولا ولا قوة الا بالله  ) কে পরবা ও আল্লাহর প্রতি ভরসা করবা , অতঃপর আয়েম্মাহ মাসুমীনদের নাম নিবা এবং তাদের উপর দুরুদ পাঠ করবা এবং আল্লাহ্‌র আশ্রয়ই নিবা অতঃপর আমাদের আশ্রয়ই নিবা , এবং নিজে ও তোমার সন্তান আর যা কিছু আছে , সব আল্লাহ্‌ এবং আমাদের উপর ছেরে দাও , যাতে সেই দিন হতে হেফাজতে থাকবা ।

হে কোমাইল , সত্যই , পয়গাম্বারকে মহান আল্লাহ্‌ আদব শিখিয়েছে এবং পয়গাম্বার আমাকে আদব শিখিয়েছেন এবং আমি মোমেনীন্দের কে আদব শিখাব। এবং আদবকে আমি তাদের জন্যে ইরস ছেরেছি কিন্তু এই যে ইমামে যামানা তা শেষ করবেন।

হে কোমাইল  , পয়গাম্বারগন ও আয়েম্মাহ মাসুমিন একই বংশ এবং পবিত্র শজরাহ থেকে আছি যে তাদের কিছু অংশ অন্য সাথে আছে , আর মহান আল্লাহ্‌ শ্রবণকারী ও সর্বজ্ঞ ।

হে কোমাইল , জ্ঞানকে আমাদের ব্যতীত অর্জন কর না , যাতে করে আমাদের মধ্যে গণনা হও ।


Wednesday, May 13, 2020

বিশ্বের প্রথম পীর/মুর্শিদ এবং এই উপমহাদেশে পাঁচটি জনপ্রিয় তরিকা

বিশ্বনবী হযরত মুহম্মাদ (দঃ) ্এর তরিকায় সর্বচেষ্ঠ তরিকা। তার তারিকা জাহির বাতেন উভয়ভাবে প্রচারিত। যারা তাঁর মনোনীত খলিফা তারাই তাঁর সর্বচেষ্ঠ তারিকার ধারক ও বাহক। তার মানোনীত আধ্যাত্মিক খলিফা দুইজন। যথা- ১/ হযরত ইমাম মাওলা আলী (আঃ) (গাদীরে খুমে লক্ষ সাহাবীর সামনে মনোনীত হন তিনি এবং রাসূল (সা) নিজে উপস্থিত থেকে তাকে সকলের মাওলা ঘোষণা করেন এবং সকল সম্মাতিন সাহাবা তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেন। এবং  ২/ হযরত খাজা আশেকে রাসূল উয়ায়েছ আল করনী (রা)। হযরত রাসূল (সা) নিজ খেরকা (গায়ের জামা) তাকে প্রদানের মাধ্যমে খলিফা মনোনিত করেন।  পরবর্তী তে তিনি মাওলা আলী (আ) এর নিকট সানী বা দ্বিতীয় বায়াত গ্রহণ করেন।  

উল্লেখ্য,  হযরত ইমাম মাওলা আলী (আঃ) এবং তাঁর পুত্রদ্বয় হযরত ইমাম হাসান (আঃ) ও হযরত ইমাম হুসাইন (আঃ) বিশ্বের মানুষের ইমাম। তাঁহারা পীর ছিলেন না। উপরের তালিকায় দেখা যাচ্ছে খাজা হযরত উয়ায়েছ করণী হচ্ছেন বিশ্বের প্রথম পীর অর্থ্যাৎ পীরগণের প্রথম। হযরত আলী (আঃ)র প্রথম খলিফা। প্রনিধানযোগ্য যে, হযরত আলী (আঃ) এর খলিফাগণের দ্বারাই সারা বিশ্বের বিভিন্ন তারীকাহ্ প্রচারিত হয়েছে। পরবর্তীতে পীরগণের নামে বিভিন্ন তারিকাহর চালু হয়; যেমন-

১) খাজা হযরত উয়ায়েছ করণী হতেঃ         উয়ায়েছী তরীকাহ্
২) খাজা হযরত হাসান বছরী  হতেঃ           বাছারীয়া তরীকাহ্ 
৩) খাজা হযরত আবদুল্লাহ কুমায়েল হতেঃ   কুমালিয়া তরীকাহ্
৪) খাজা হযরত আবুল মেকদাম  হতেঃ       মেকদামীয়া তরীকাহ্
৫) খাজা হযরত আবু যর গিফারী  হতেঃ      গিফারীয়া তরীকাহ্
৬) খাজা হযরত সালমান ফারসী  হতেঃ       সালমানিয়া তরীকাহ্

উল্লেখ্য যে, অন্যান্য সকল তরিকায় সময়ের বিবর্তনে মূল নামের বিলোপ সাধণ হয়েছে। নতুন নামে নতুন তরীকাহ্ হিসেবে চালু হয়েছে। কিন্তু একমাত্র উয়ায়ছী তরীকাহ্ মূল নামে অপরিবর্তীত হিসাবে বিশ্বে প্রচলিত আছে। বাংলাদেশে প্রচলিত ৫টি তরীকার সময়ের ব্যবধাণ ও সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপঃ-

১) উয়ায়েছীয়া তরীকাহ্ঃ

Sunday, May 3, 2020

তন ও মন পবিত্র করাই সিয়াম সাধনা এমন সাধনায় কদর রাত্রি লাভ হয়

তন ও মন পবিত্রকরণ সিয়াম সাধনের তাকওয়া

ফকির শাহ্ আশেক মোরশেদ উয়ায়েছী (সুজন),   ০১৭২০৬০২২২২

 সিয়াম বা রোজা ইসলামের ৫ম স্তম্ভ। কে সাওম পালনকারী আর কে সাওম পালনকারী নয় তা দেখে চেনার উপায় নেই। এটা আল্লাহ ও বান্দার সাথে সম্পর্কযুক্ত। সাওমকে আমরা রোজা বলি, রোজা ফার্সি শব্দ যার অর্থ বিরত থাকা। বিরত থাকার উদ্দেশ্য আল্লাহ ভিতি বা তাকওয়া অর্জন। রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ বলেনÑ হে ঈমানদাররা, তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া(পরহেজগারিতা) হাসিল করতে সক্ষম হও (সূরা বাকারা আয়াত নং : ১৮৩)। সিয়াম পালনকারীদের কী থেকে বিরত থাকতে হবেÑ তা রাছুল (ছা) এর হাদিসে রয়েছে- মিথ্যা ও ঝুটা (মন্দ) কারবার যে বাদ না দেয় আল্লাহর দরবারে পানাহার ছেড়ে দেওয়া কোনো কাজেই আসবে না। রোজার মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র করা ইবাদত। কেন পবিত্র হতে হবে? এর উত্তর কুরআনে যে পবিত্র হয়েছে সে মুক্তি পেয়েছে (আল-কুরআন ৮৭:১৪)। একারণে তন (শরীর) ও মন উভয় পবিত্রতার প্রয়োজন। শুধু বাহ্যিক পবিত্রতা কাম্য নয়। কেননা তন দোষে মন দোষী; মন দোষে তন দোষী। পবিত্রতা অর্জনের জন্য সিয়াম একটি উচ্চস্তরের সাধনা। এ সাধনায় যেমন জাহেরি পবিত্রতা আনয়ন করে তেমনি বাতেনী বা অভ্যন্তরীণভাবেও এমন পবিত্র হওয়া যায় যে, উক্ত পবিত্র দিলে আল্লাহর অবস্থান হয়ে থাকে। পবিত্রতা অর্জন করার পদ্ধতিগুলো হলোÑ চোখ দ্বারা অবৈধ কিছু না দেখা, কান দ্বারা অবৈধ কিছু না শুনা,  হাত, পা, নাক, দিল-দেমাগ এইসব শ্রেষ্ঠ নেয়ামতের অবৈধ ব্যবহার না করা। এগুলো যথাযথ পালন করলেই দেহকে অপবিত্র হতে রক্ষা করা যায়। রাসুল (সা.) বলেনÑ প্রত্যেক জিনিসের জাকাত রয়েছে, দেহের জাকাত হলো সাওম পালন করা। - হাদিস


রমজানের এক মাস রোজা একটি রিফ্রেশিং ট্রেনিং। এর মাধ্যমে শিক্ষা নিতে হয় কিভাবে অন্য মাসগুলোতেও বা সারা বছর বিরত থাকতে হয় অবৈধ চিন্তা ও অবৈধ কাজ থেকে। কুপ্রবৃত্তির (নফস) ওপর নিয়ন্ত্রণ করে একমাত্র রোজা। ইসলামের পাঁচটি খুঁঁটিই মজবুত করতে হয়। তবেতো ইসলাম নামক ঘরটি মজবুত হবে। শুধু ৫ ওয়াক্ত নামাজের একটি খুঁটি মজবুত করলে হয় না। প্রকৃত ঈমানদারদের প্রতিটি খুঁটিই মজবুত করা উচিত। জন্ম থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রোজা পালনই রমজান মাসের শিক্ষা। এখানেই সিয়ামের আধ্যাত্মিকতা (ঝঢ়রৎরঃঁধষরঃু)। এ শিক্ষা/সাধনা নফসে আম্মারার (কুপ্রবৃত্তি) বিরোদ্ধে। কুফরি, শেরেকি, জেনা, মিথ্যা এগুলি পবিত্রতা অর্জনে বাধা ও অশান্তির পথ। এগুলি হতে ফিরে থাকা মানুষের সারা জীবনের রোজা। রোজার পুরস্কার যেহেতু আল্লাহ নিজে দেন তাই এ পুরস্কার অর্জন করা আমাদের তাকওয়া বা পরহেজগারিতার একমাত্র উদ্দেশ্য। কিন্তু কী সেই পুরস্কার! যে পুরস্কারটি আল্লাহ নিজে দিবেন? পুরস্কার ব্যাপারে একটি রাছুল (ছা) হাদিসে বলেছেন- রোজাদার ব্যক্তির দুটি আনন্দ। একটি হলো ইফতারের মুহূর্তে আরেকটি তার প্রতিপালকের সাক্ষাতের মুহূর্তে  (মুসলিম: ২৫৭৪  এবং ২৫৯৮ ই.ফা.)। এ হিসাবে সারা জীবন নফসে আম্মারার (কুপ্রবৃত্তি) বিরোদ্ধে থেকে নফসে মুৎমাইনা(প্রশান্ত চিত্ত প্রাণ)তে বলবৎ থাকাই সিয়ামের সফল সাধনা। যার প্রকৃত পুরস্কার সূখময় মৃত্যু যাকে আধ্যত্মিকতার পরিভাষায় ইফতার বলা হয়েছে ও আর ২য় পুরস্কারটি হলো প্রতিপালকের সাক্ষাত বা সন্দর্শনই ইহকাল-পরকালের পরম কাম্য। যেহেতেু আধ্যাত্মিক মতে হাকিকতের রোজা সারা জীবনই যা নফসে আম্বারার বিরোদ্ধে। রমজান মাসের সিয়াম সাধনাগুলো বাকি ১১ মাস বাস্তবায়ন রাখাই হাকিকতের রোজার সাধনা। আর যেকোনো সাধনা শুরু করাটা কঠিন, অভ্যাস হয়ে গেলে সহজ।

বাংলাদেশে উয়ায়েছী তরিকার প্রতিষ্ঠাবর্গের অন্যতম শাহ্ আব্দুর রহিম (রহ.) তার মহম্মদী বেদ তত্ত্ব কিতাবে প্রায় ২০০ বছর আগে লিখেছেনÑ

    

রোজাদার হয় মেরা নফছ আম্বারার।

বদ ফেল যত কিছু খোরাক যাহার।

ইফতারের কাল বটে আখেরী সময়।

এ ছুরাতে হয় রোযা রমযান আদায়।

অর্থ- নফস= প্রাণ, প্রবৃত্তি। নফসে আম্বারা = কুপ্রবৃত্তি, খারাপ কাজ। ফেল= কাজ।

 

রোজার সাহরি ও ইফতারের সময় সুর্নিদিষ্ট করে দেওয়া সত্ত্বেও অনেকেই তা ঠিকমত পালন করছি কিনা ভাবার বিষয়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ রাত্রির কৃষ্ণরেখা থেকে উষার শুভ্ররেখা স্পষ্টরূপে প্রতিভাত না হয়। অতঃপর রাত্রি পর্যন্ত রোজা পালন করো (২:১৮৭)।  মাগরিবের আজান দিলেই ইফতার করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। পবিত্র কুরআন মাজিদের সরল অর্থ সম্বলিত দলিলই মুখ্য। আল্লাহ উক্ত আয়াতে লাইল শব্দটি উল্লেখ করেছেন। এই লাইল দ্বারা সন্ধ্যা বা সূর্যাস্ত বুঝায় না। সন্ধ্যা বা সূর্যাস্ত সময়কে আরবিতে শাফক বলা হয়। কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তোমরা রাত্রি পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। রাসুল (ছা.) এর হাদিস- (পূর্বদিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন : যখন তোমরা ওদিক থেকে রাত্রি নেমে আসতে দেখবে তখন সওমকারী ইফতার করবে (বুখারি- ৪৮০২ ই.ফা.)। আরেকটি হাদিসÑ উমর (রা.) বর্ণনা করেছেন : রাসুল (সা.) বলেছেনÑ যখন রাত আসে দিন চলে যায় এবং সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে। (সহি মুসলিম, ই.ফা. ২৪২৫)। উল্লেখ্য, জলদি ইফতার করারও হাদিস রয়েছে। তার মানে এই নয় যে, ইফতারের সময় হওয়ার আগেই ইফতার করতে হবে। তাড়াতাড়ি ইফতার করা দ্বারা বুঝানো হয়েছে ইফতারের সময় হলে দেরি না করে জলদি ইফতার করা।   হাদিসে রয়েছে রাসুল (সা.) ও সাহাবিরা মাগরিবের সালাত আদায় করে ইফতার করেছেন।  দেখুন হাদিস মুয়াত্তা ইমাম মালিক ৬২৪ নং এ বলা হয়েছে- হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিতঃ উমার ইবনু খাত্তাব (রা) এবং উসমান ইবনু আফফান (রা) দুজনে মাগরিবের নামায আদায় করতেন, এমন সময় তখন তাঁরা রাত্রির অন্ধকার দেখতে পেতেন। (আর এটা হত) ইফতার করার পূর্বে। অতঃপর তাঁরা (দুজনে) ইফতার করতেন। আর এটা হতো রমযান মাসে। 

 

আবারও স্মরণীয় যে, সারা জীবন কলুষমুক্ত রাখাই রমজান মাসের শিক্ষা। আল্লাহর অলিদের কথা হলোÑ মোমেনের সকল স্থানই মসজিদ, সকল দিনই শুক্রবার, সকল মাস রমজান। সঠিকভাবে রোজা পালন না করতে পারলে কলুষমুক্ত হওয়া যায় না। কদর রাত্রির উপলব্ধিও করা যায় না। আরও উপলব্ধি করা যায় না কুরআন নাজিল পদ্ধতি এবং রুহ, ফেরেশতা অবতরণ প্রত্যক্ষ করা যায় না। শান্তির রাত্রিতে শান্তি পরিলক্ষিত হয় না। আল্লাহ যেমন সত্য ও বাস্তব তেমনি কদরের রাত্রিও সত্য ও বাস্তব। এ বিষয়ে অনুমানই অজ্ঞতা ও ভুল। অজ্ঞতাই কলুষমুক্ত হওয়ার পথে বড় বাধা। আর অজ্ঞতা দূর করার জন্য কারো নিকট সঠিক জ্ঞান অর্জন করার অনিহা হলো অহংকার। 

 

অভাবে স্বভাব নষ্ট প্রকাশ জাহানে;

জ্ঞানহীন থাকা ভবে অভাবের মানে। 

-হযরত শাহ্ কছিমুদ্দিন উয়ায়েছী (রহ.)

 

শবে কদর প্রতিটি মানুষের জীবনে পার হয়ে যায়। যে সব জ্ঞানী ব্যক্তি এ রাত্রির অনুসন্ধান প্রক্রিয়া জানেন তাদের থেকে এ রাত্রির সন্ধান জানতে হয়। সঠিক সাধনা জেনে নেয়া ছাড়া কদর রাত্রি খোঁজা মানে অথৈই সমূদ্রে মনি-মুক্ত খোঁজার মত। আর সমূদ্রে মনি-মুক্তার সন্ধান জানা লোকের মাধ্যমে খুঁজা অধিকতর শ্রেয়। কেননা আল্লাহ বলেনÑ বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান? (৩৯:৯)। 

এই লেখার প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- সঠিক সময়ে রোজা পালন করে নিজেকে কুলষমুক্ত ও কদর রাত্রির সন্ধান যারা জানে তাদের মাধ্যমে কদর রাত্রির দেখার সন্ধান জেনে জীবনে একবার হলেও কদর রাত্রী বাস্তব লাভ করে জীবন ধন্য করা উচিত। এখনই তৎপর হউন অহংকারমুক্ত হয়ে বিষয়গুলি সন্ধান লাভ করুন।

পরিশেষে, রাসূল ও তাঁর আহলে বায়েতের শিক্ষার ধারার মাধ্যমে তন ও মন পবিত্রের সাওম সাধনা, কদর রাত্রির সন্ধান রোজাদারের তাকওয়া হউক। আমিন।


Monday, April 13, 2020

“খোদা দেখা” - আনোয়ার হোসেন

“খোদা দেখা”  

উৎসর্গ আমার মুর্শিদ ঃ ফকির শাহ আশেক মোরশেদ সুজন উয়ায়েছী কে। 

আমি আল্লাহর পাপী বান্দা
আমার উপায় নাই,
মাফ করে দাও তুমি খোদা
তোমার মহিমায়।।

ইসলামের ইতিহাসে হযরত আলী (আঃ)এর প্রাধান্যের কারণ

হযরত আলী (কঃ) হচ্ছেন পাক পাঞ্জাতানের একজন। তাঁর জন্ম পবিত্র কাবা ঘরে, প্রথম দর্শন রাসূল (সাঃ) এর মুখ । প্রথম খাদ্য রাসূল (সাঃ) এর রসনা (থুথু)। তিনি সর্বদা রাসূল (সাঃ) এর সাথে ছিলেন। ১০ বৎসর বয়সেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বিশ্বের প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীর মর্যাদা লাভ করেন। রাসূলের (সাঃ) সহযোগী সার্বক্ষনিক দেহ-রক্ষক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি রাসূলের (সাঃ) পরিবারে লালিত-পালিত হন এবং রাসূলের (সাঃ) পরিবারের সদস্য ছিলেন। তার মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) বলেছেনঃ-
  • আমি জ্ঞানের শহর, আলী তাহার দরজা।
  • আমি হেকমত বিদ্যার ঘর আলী তার দ্বার।
  • কোন মোনাফেক আলীকে ভালবাসে না, কোন মুমিন আলীকে ঘৃনা করেন না।
  • যে ব্যক্তি আলীকে গালী দেয়, সে আমাকে গালী দেয়; যে আমাকে গালী দেয়, সে আল্লাহকে গালী দেয়

বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (ছা.) ও তাঁর আহলে বায়েত বইটি প্রত্যেক রাসূল অনুসারী ও অনুসন্ধিৎসা পাঠকদের জন্য ..

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম রাসূল (ছা.) জীবনি সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সত্য জ্ঞানার্জনে বইটিতে যা যা পাবেন তা সংক্ষেপে নিন্ম: হযরত মু...