Wednesday, September 15, 2021

হজরত খাজা উয়ায়েছ আল করণী (رضى الله عنه) (রা) এর তিরোধান বা শহীদ দিবস যাকে “লাইলাতুল হারীর” বা রেশমী গৌরব রাত্রী বলা হয়।

হজরত উয়ায়েছ আল করণী(رضى الله عنه) এর তিরেধান বা শহীদ দিবস


“হজরত উওয়াইস (رضى الله عنه) উম্মতের কাছে সূর্যের মত এবং ধর্মের মোমবাতি।”

তিনি সরাসরি মহানবী (সা।) - এর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। তারপর মাওলা আলীর নিকট বায়াত হয়ে তার খলিফাও হন। সে হিসাবে তার দুই মুশিদ। হযরত দাতা আলী ইবনে উসমান আল হুজ্বিরি তাঁর “কাশফ-ওল মাহজুব” গ্রন্থে লিখেছেন:


হজরত উয়াইয়াস করানী হলেন মহান শিক্ষকদের মধ্যে একজন যারা নবীজির সময়ে বেঁচে ছিলেন। নবী করীম (সাঃ) তাঁর অনুসারীদের বললেন, "ঘরণে এমন এক ব্যক্তি আছে যার নাম উওয়াইস। কিয়ামতের দিন তিনি আমার লোকদের পক্ষে রাবিয়া ও মুযযার গোত্রের যতটা ভেড়া রয়েছে সেগুলোর পশম পরিমান লোকের জন্যা তাঁর কাছে সুপারিশ করবেন।" (এই দুই উপজাতির সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি মেষের পাল ছিল।) নবী হজরত ওমর এবং হযরত আলীর দিকে ফিরে বললেন, আপনি তাকে দেখতে পাবেন এবং তাকে চিনতে পারবেন; তিনি মাঝারি উচ্চতার পাতলা ধরনের মানুষ, তাঁর হাতের তালুতে মুদ্রার আকারের সাদা দাগ তবে এটি কুষ্ঠরোগ নয়।আপনি যখন তাকে দেখেবেন, তখন তাকে আমার সালাম দিন এবং আমার উম্মতের জন্য, আমার সম্প্রদায়ের জন্য মাগফিরাতের প্রার্থনা করতে বলুন ""N.B. (মুসলিম : হাদীস 6171) উল্লেখ‌্য উয়ায়েছের পিতা হযরত আমির ছিলেন ইসলামের একজন শক্তিশালী বিশ্বাসী। হযরত উয়েস যখন ছোট ছিলেন তখনই তিনি মারা যান।


⚔️ সিফিনের যুদ্ধে শহীদ হওয়া⚔️

6557 খ্রিস্টাব্দে সিফফিনের যুদ্ধে হজরত উয়ায়েছ আল করণী (رضى الله عنه) মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে হযরত ইমাম মাওলা আলী আলাইসিস সালামের পক্ষে লড়াই করেছিলেন। কথিত, আছে প্রায় ৩০০ অনুসারী নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন এবং এই যুদ্ধে হজরত উয়ায়েছ আল করণী (رضى الله عنه) শহিদী মর্যাদা লাভ করেন। তাঁর উফাতের পর মওলা আলী (আ) তার দাফন সমাধা করেন। কী পরম সৌভাগ‌্য! মুর্শিদের খেতমতেই তাঁর জীবন অবসান ঘটল। এটা ছিল আরবী সফর মাসের আট তারিখের দিবাগত রাত্রি। এই রাত্রিকে “লাইলাতুল হারীর” বলা হয়। “লাইলাতুল হারীর” অর্থ রেশম গৌরব রাত্রি।

রাজনৈতিক বা অবস্থানগত কারনে
এর অনুসারীগণ মূল রওজায় প্রবেশ করতে পারে না। এর ফলে পৃথিবীর অনেক স্থানে তার প্রতিকী মাজার তৈরী করা হয়েছে। আজারবাইজান, ইয়েমেন, পাকিস্থানের সিন্দু প্রাদেশের মাছ জোবায়েদে ও গজনীতে এ ধরণের প্রতিকী মাজার লক্ষনীয়। প্রতিকী মাজার তৈরীর রীতি বিশ্বে প্রচলিত আছে। প্রতিটি দেশেই পাক পাঞ্জাতনের ইমাম হোসাইন (আ) এর প্রতিকী মাজার রয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন। বাংলাদেশে ভাষা আনন্দোলনের শহীদের স্মৃতি স্মরণে জেলা উপজেলায় প্রতিকী শহিদ মিনার রয়েছে। সিফিনের ময়দানে হজরত উয়ায়েছ আল করণী (رضى الله عنه) এর রওজা ‘মাকাম-এ-উয়ায়েছ’ নামে খ‌্যাত।

বর্তমানে উয়াইস কার্নির প্রধান মাজার এবং মাজারটি আম্মার ইবনে ইয়াসির মসজিদে সিরিয়ার রাক্কায় রয়েছে। ১১ ই মার্চ, ২০১৩-তে ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এবং লেভান্ট রাক্কায় অবস্থিত উয়েস এবং আম্বার ইবনে ইয়াসিরের মসজিদটিকে বোমা ফাটিয়ে এবং ব্যাপক ক্ষতি করেছে।


ইরাকের [[মোসুল]] -তেও উয়াইসের একটি মাজার রয়েছে তবে ২০১৪ সালে এটি ধ্বংসও করা হয়েছিল। []]


নির্মাণ

মূল সমাধিগুলি শহরের প্রান্তে পুরাতন কবরস্থানে অবস্থিত। ১৯৮৮ সালে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি হাফেজ আল আসাদ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি সমাধিগুলির আশেপাশে একটি নতুন মসজিদ গড়ে তোলার প্রকল্প শুরু করেছিলেন। কাজটি ২০০৩ সালে শেষ হয়েছিল এবং একটি স্মরণীয় ফলক প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য রাষ্ট্রপতি বাশার আল আসাদ এবং ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ খাতামিকে কৃতিত্ব দিয়েছিল।


ধ্বংস

২০১৩ সালের জুনে, সুন্নি গ্রুপের আল-মুনতাছরীন বিল্লাহর বিদ্রোহী যোদ্ধারা মসজিদ কমপ্লেক্সে বাস করছিলেন। 26 শে মার্চ, ২০১৪-এ মসজিদটি দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ দ্বারা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ইরাক ও লেভেন্টে ইসলামিক স্টেট পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।

রহমে আল্লাহ আবার কোন ন‌্যায়বান শাসক তা পুনঃনির্মাণ করবেন ।

পরিশেষে, এটা সফর মাস।  বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ৮ই সফর সারারাত্রিব‌্যাপিত ওয়াজ নসিহত আলোচনা মাধ‌্যেমে অতিবাহিত হয়ে আসছে।

বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (ছা.) ও তাঁর আহলে বায়েত বইটি প্রত্যেক রাসূল অনুসারী ও অনুসন্ধিৎসা পাঠকদের জন্য ..

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম রাসূল (ছা.) জীবনি সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সত্য জ্ঞানার্জনে বইটিতে যা যা পাবেন তা সংক্ষেপে নিন্ম: হযরত মু...