বিশ্বনবী হযরত মুহম্মাদ (দঃ) ্এর তরিকায় সর্বচেষ্ঠ তরিকা। তার তারিকা জাহির বাতেন উভয়ভাবে প্রচারিত। যারা তাঁর মনোনীত খলিফা তারাই তাঁর সর্বচেষ্ঠ তারিকার ধারক ও বাহক। তার মানোনীত আধ্যাত্মিক খলিফা দুইজন। যথা- ১/ হযরত ইমাম মাওলা আলী (আঃ) (গাদীরে খুমে লক্ষ সাহাবীর সামনে মনোনীত হন তিনি এবং রাসূল (সা) নিজে উপস্থিত থেকে তাকে সকলের মাওলা ঘোষণা করেন এবং সকল সম্মাতিন সাহাবা তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেন। এবং ২/ হযরত খাজা আশেকে রাসূল উয়ায়েছ আল করনী (রা)। হযরত রাসূল (সা) নিজ খেরকা (গায়ের জামা) তাকে প্রদানের মাধ্যমে খলিফা মনোনিত করেন। পরবর্তী তে তিনি মাওলা আলী (আ) এর নিকট সানী বা দ্বিতীয় বায়াত গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, হযরত ইমাম মাওলা আলী (আঃ) এবং তাঁর পুত্রদ্বয় হযরত ইমাম হাসান (আঃ) ও হযরত ইমাম হুসাইন (আঃ) বিশ্বের মানুষের ইমাম। তাঁহারা পীর ছিলেন না। উপরের তালিকায় দেখা যাচ্ছে খাজা হযরত উয়ায়েছ করণী হচ্ছেন বিশ্বের প্রথম পীর অর্থ্যাৎ পীরগণের প্রথম। হযরত আলী (আঃ)’র প্রথম খলিফা। প্রনিধানযোগ্য যে, হযরত আলী (আঃ) এর খলিফাগণের দ্বারাই সারা বিশ্বের বিভিন্ন তারীকাহ্ প্রচারিত হয়েছে। পরবর্তীতে পীরগণের নামে বিভিন্ন তারিকাহর চালু হয়; যেমন-
১) খাজা হযরত উয়ায়েছ করণী হতেঃ উয়ায়েছী তরীকাহ্
২) খাজা হযরত হাসান বছরী হতেঃ বাছারীয়া
তরীকাহ্
৩) খাজা হযরত আবদুল্লাহ কুমায়েল হতেঃ কুমালিয়া তরীকাহ্
৪) খাজা হযরত আবুল মেকদাম হতেঃ মেকদামীয়া
তরীকাহ্
৫) খাজা হযরত আবু যর গিফারী হতেঃ গিফারীয়া
তরীকাহ্
৬) খাজা হযরত সালমান ফারসী হতেঃ সালমানিয়া
তরীকাহ্
উল্লেখ্য
যে, অন্যান্য সকল তরিকায় সময়ের বিবর্তনে মূল নামের বিলোপ সাধণ হয়েছে। নতুন নামে নতুন
তরীকাহ্ হিসেবে চালু হয়েছে। কিন্তু একমাত্র ‘উয়ায়ছী তরীকাহ্’ মূল নামে অপরিবর্তীত হিসাবে বিশ্বে
প্রচলিত আছে। বাংলাদেশে প্রচলিত ৫টি তরীকার সময়ের ব্যবধাণ ও সংক্ষিপ্ত তথ্য
নিম্নরূপঃ-
১) উয়ায়েছীয়া তরীকাহ্ঃ
২) কাদেরীয়া তরীকাহ্ঃ
স্বয়ং রাসূলে খোদা (ছাঃ) হতে শুরু করে
তরীকতি খিলাফত প্রাপ্ত সপ্তদশ পুরুষ
হচ্ছেন শায়েখুল মাশায়েখ কুতুবুল আরিফিন সাইয়েদুল মওয়াহেদিন গাউসুল আজম হযরত
খাজা শাহ মহীউদ্দীন আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর অনুসারীগণ তাদের মুর্শিদের
নামানুসারে “কাদেরীয়া” তরিকাহ চালু করে। প্রচার শুরু
হয় বাগদদ থেকে। তাঁর জন্ম ১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে ইরানে। রাসূল (ছাঃ) ওফাতের ৪৪৫ বৎসর
পর। বাগদাদেই তিনি ১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ওফাত পান এবং তাঁর পবিত্র মাজার এখানেই
অবস্থিত। আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) –এর মুর্শিদের নাম খাজা শাহ্ আবুল খায়ের মুহাম্মদ (রহঃ)। কাদেরীয়া তরীকার
অনেকগুলো উপ-তরিকাহ আছে।
৩) চিশতীয়া
তরীকাহ্ঃ
হযরত
খাজা শাহ্ আবু ইসহাক চিশতী (রহঃ) এর নামানুসার তাঁর অনুসারীগণ “চিশতিয়া” তরীকাহ জারী করে। তাঁর
মুর্শিদের নাম খাজা শাহ্ মামশাদ উলভী দীলওয়ারী। এই চিশতী ছিলছিলার অর্থাৎ খাজা শাহ্ আবু ইসহাক চিশতীর নিম্নতম ৭ম খলিফা
হচ্ছেন খাজা হযরত গরীবে নেওয়াজ শাহ্ মঈন উদ্দীন চিশতী (রহঃ) । তাঁর জন্মস্থান
ইরানে ১১৪২ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি ১১৮৩ খ্রিঃ দিল্লী আগমন করেন ও আজমীরে প্রচার
কেন্দ্র স্থাপন করেন এবং ১২৩৬ খ্রিঃ এ আজমীরে ওফাত হন। কথিত আছে, তিনি ১১জন এর নিকট শিক্ষার্যণে খেদমতে উপনিত হয়েছিলেন। তাঁর শেষ
মুর্শিদ-এর নাম খাজা শাহ্ উছমান হারুনী চিশতী (রহঃ)।
৪) নকশবন্দিয়া তরীকাহ্ঃ
হযরত
খাজা শাহ মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন নকশবন্দ আল বুখারী (রহঃ) হতে “নকশবন্দিয়া তরীকাহ্ চালু
হয়েছে। তিনি ১৩১৭খ্রি. সনে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং এখানেই ওফাত প্রাপ্ত হন।
তাঁর মুর্শিদ শায়েখুল মাশায়েখ হযরত সৈয়দ শামসুদ্দীন আমীর কালাল (রহঃ)। তাঁর উর্দ্ধতন পীরগণ উয়ায়ছী
তরিকার অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। নকশবন্দি অর্থ চিত্রকর। খাজা শাহ মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন
নকশবন্দ (রহঃ) সর্বদা “আল্লাহ” নামের নকশা অংকন করতেন। তাই,
তাকে নকশবন্দি খেতাবে ভূষিত করা হয়। তিনি রাছূল (ছাঃ) এর ৬৮৫ বছর পর আগমন করেন।
৫)
মোজাদ্দেদীয়া তরীকাহ্ঃ
হযরত
শায়েখ আহমদ ফরুকী সেরহিন্দী মুজাদ্দেদী আলফেসানী (রহঃ) হচ্ছেন এ তরিকার
প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মুঘল সম্রাট আকবর প্রজাদের
খুশি করার উদ্দেশ্যে সৃষ্ট নতুন ধর্মমত ‘তাওহিদে এলাহি’ এর
বিরোধিতা করেন। এ অনাচারের প্রতিবাদ করেন হযরত
শায়েখ মুহম্মদ মুজাদ্দেদী আলফেসানী (রহঃ)
। হিজরী দ্বিতীয় সহস্রের প্রথম দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে তাকে দ্বিতীয় সহস্রের
মোজাদ্দেদ বা সংস্কারক বলা হয়। এই নকশবন্দী তরি কারই সংস্কারকৃত রূপ। তাঁর মুর্শিদ
ছিলেন হযরত খাজা বাকীবিল্লাহ নকশবন্দ (রহঃ) । পীরের যথাযথ খেদমত করে তিনি খিলাফত
লাভ করেন। রাসূল (ছাঃ) ওফতের ৯৩২ বৎসর পর। বাংলাশেদ-ভারতবর্ষে এ তরীকার ব্যাপক
প্রসার ঘটেছে।





